১৮ এপ্রিল (শনিবার) অনুষ্ঠিত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তাদের সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছেন বিগত দুটি সরকার হামের টিকা দেয়নি৷ তিনি বলেন, “সারাদেশে শিশুদেরকে হামের টিকা না দেওয়ার ফলে বিগত ইমিডিয়েট দুটি সরকারের জীবনবিনাশী ব্যর্থতা মনে হয় ক্ষমাহীন অপরাধ।” দেখুন এখানে
তবে ফ্যাক্ট-চেক জোন নানা তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত করেছে প্রধানমন্ত্রীর এই দাবি সত্য নয়।
ইউনিসেফ এর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে ২০১৯ সালের ২৪ এপ্রিলে দেয়া পোস্টে জানানো হয়, সেদিন থেকে এক সপ্তাহব্যাপী টিকাদান সপ্তাহ শুরু হয়েছে। পোস্টে শিশুদের হাম-রুবেলা টিকার প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার তথ্য জানানো হয়৷ দেখুন এখানে ।
এর পরের বছর ২০২০ সালেও দেশে হাম-রুবেলার টিকার ক্যাম্পেইনের তথ্য ইনডিপেনডেন্ট টিভি সহ একাধিক মিডিয়ায় উঠে এসেছে। দেখুন এখানে ।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের টিকাদান সম্পর্কিত কর্মসূচি ইপিআইয়ের ডাটাবেজ থেকে আরও জানা যায়, এই কর্মসূচি ২০২২, ২০২৩, ২০২৪, ২০২৫ সালেও চলমান ছিল। ডাটাবেজের তথ্য অনুযায়ী ২০২১ সালে এম আর-১ এবং এম আর-২ টিকা কভারেজের হার ছিল যথাক্রমে ৯৭ দশমিক ৩ ও ৯৪ দশমিক ৮ শতাংশে। ২০২২ সালে এমআর-১ শতভাগ এবং এমআর-২ ৯৭ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছে। ২০২৩ ও ২৪ সালেও এই হার ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশের মধ্যে ছিল।
তবে ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকার আমলে এমআর-১ টিকার কভারেজ নেমে আসে ৫৬ দশমিক ৫ শতাংশে এবং এমআর-২ টিকার কভারেজ ৫৭ দশমিক ১ শতাংশে। দেখুন এখানে।

ফ্যাক্ট-চেক জোন অবগত হয়েছে যে, ইপিআইয়ের ডাটাবেজে ২০২৪ পর্যন্ত ডাটা পূর্ণাঙ্গ থাকলেও, ২০২৫ সালের ডাটা সম্পূর্ণ নয়৷ এই অসম্পূর্ণতা প্রসঙ্গে ইউনিসেফের ইপিআই স্পেশালিস্ট সরওয়ার আলম সাংকু তার ফেসবুক প্রোফাইলে ৯ বছরের টিকা কভারেজের ডাটা তুলে ধরেন৷ এতে দেখা যায় আগের বছর গুলোর তুলনায় অন্তর্বর্তী সরকার আমলে ২০২৫ সালে হামের টিকা কাভারেজ কম ছিল। তবে সেটিও প্রায় ৯০%।
সাংকু জানান ‘‘গত ৮ বছরে হামের টিকা দেয়া হয় নাই কথাটা মোটেও ঠিক নয়। এটা বাংলাদেশের ইপিআই প্রোগ্রামের মত একটা বিশ্বনন্দিত সফল প্রোগ্রামের সাথে তামাশা। গত ৯ বছরের ডাটা দিলাম। ৯ বছরে প্রায় সাড়ে ৩ কোটির কাছাকাছি শিশুদের টিকা দেয়া হয়েছে যেটা সরকারি এডমিনিস্ট্রেটিভ রিপোর্ট। প্রায় বছরই কাভারেজ ৯৫% এর কাছাকাছি। মাঝে ২০২০-২০২১ এ সাড়ে ৩ কোটি বাচ্চাকে ১ ডোজ টিকা দেয়া হয় হাম রুবেলা ক্যাম্পেইন এ। সেখানেও শতভাগের কাছাকাছি কাভারেজ ছিল।’’ পোস্টটি দেখুন এখানে ।
ইউনিসেফের ইপিআই স্পেশালিস্ট সরওয়ার আলম সাংকুর দেয়া তথ্য ভেরিফাই করা সম্ভব হয়নি৷
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে এখনো অব্দি ২০২৫ সালের অফিসিয়াল ডাটা প্রকায় করা না হলেও, ইপিআইয়ের ড্যাশবোর্ডে পূর্ববর্তী রেকর্ড সরিয়ে ফেলা হয়েছে বিধায় নিশ্চিত হওয়া যায় ড্যাশবোর্ডের ২০২৫ এর ডাটা সঠিক নয়।তবে অন্তর্বতী সরকার আমলে টিকা কার্যক্রমে অবহেলার প্রমাণ পেয়েছে Fact Check Zone।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের যে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি অপারেশনাল প্ল্যান বা ওপির আওতায় টিকা কেনা হতো, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সেটি ২০২৫ সালের আগস্টে বাতিল করে দেওয়া হয়। ফলে টিকা কার্যক্রম সংকটে পড়ে। দেখুন এখানে ।
সমস্ত তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, ২০১৮-২৪ পর্যন্ত হামের টিকা দানে বাংলাদেশ দারুণ অগ্রগতি অর্জন করেছিল। ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী আমলে হামের টিকা দানের হার কমলেও, পুরোপুরি বন্ধ ছিল না৷
ফ্যাক্ট-চেক জোন সিদ্ধান্ত: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের “সারাদেশে শিশুদেরকে হামের টিকা না দেওয়ার ফলে বিগত ইমিডিয়েট দুটি সরকারের জীবনবিনাশী ব্যর্থতা”র দাবিটি অসত্য।




