ফ্যাক্ট চেকস
‘আশুলিয়ায় পুড়িয়ে ফেলা ব্যক্তিরা জুলাই শহীদ তালিকায় নেই’-মনিরা শারমিনের দাবিটি সত্য নয়
ফ্যাক্ট চেক

‘আশুলিয়ায় পুড়িয়ে ফেলা ব্যক্তিরা জুলাই শহীদ তালিকায় নেই’-মনিরা শারমিনের দাবিটি সত্য নয়

সম্প্রতি একটি বেসরকারী টিভি চ্যানেলে এনসিপির নেত্রী মনিরা শারমিন দাবি করেছেন,”স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের যে লিস্ট, সেখানে অনেকের নাম ডকুমেন্টেড করা যায়নি। কারণ, MIS সিস্টেমে এনআইডি কার্ড থাকতে হয়। একেবারে যেখানে ঘটনা ঘটেছে সেখানকার ফুটেজ থাকতে হয়, পুলিশ ভেরিফেকশনে। হসপিটালে ডকুমেন্টেড থাকতে হয়। সবার সেটা ছিল না। আশুলিয়াতে যেখানে এতগুলো লাশ পুলিশ পুড়িয়ে দিয়েছে, সেখানে কোথায় পাবেন ডকুমেন্ট?”

এছাড়াও তিনি বলেন, “জাতিসংঘের রিপোর্টে যে ১৪০০ মানুষের কথা বলা হয়েছে, সেটা কোথায়, কোন জায়গায়, কত তারিখে,কিভাবে হয়েছে স্পট দিয়ে উল্লেখ করা আছে।’ দেখুন ভিডিও

 

ফ্যাক্ট-চেক জোন এর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মনিরা শারমিন একাধিক বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করেছেন। 

দাবি-১: “আশুলিয়াতে পুলিশ এত লাশ পুড়িয়ে দিয়েছে। তাদের কোন ডকুমেন্টেশন নেই”

ফ্যাক্ট-চেক: দাবিটি সত্য নয়।

আশুলিয়ার সেই ঘটনায় পুলিশের গাড়িতে মোট ছয়জনকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয় বলে আদালতে জানিয়েছে প্রসিকিউশন। একজন অজ্ঞাত বাদে বাকি পাঁচজনই জুলাই শহীদ তালিকায় গেজেটেড হয়েছেন। তারা হলেন সাজ্জাদ হোসেন (গেজেট ২৫০), আস সাবুর (৪৪৪), তানজীল মাহমুদ সুজয় (৪১৫), বায়েজিদ বুসতামি (৪৮৩), আবুল হোসেন (৮৪৫)।

জুলাই শহীদ তালিকা

দাবি-২: “MIS সিস্টেমে (জুলাই শহীদ) তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করতে এনআইডি কার্ড থাকতে হয়”

ফ্যাক্ট-চেক: দাবিটি সত্য নয়।

জুলাই শহীদ তালিকায় শতাধিক ব্যক্তির নাম লিপিবদ্ধ হয়েছে, যাদের বয়স ১৮ এর নিচে এবং তাদের কোন এনআইডি নেই। এরকমই একজন রিয়া গোপ, যার বয়স ৬ বছর। রিয়া গোপের গেজেট নম্বর-১৪৯

দাবি-৩: “জাতিসংঘের রিপোর্টে  ১৪০০ মানুষ কোথায়, কোন জায়গায়, কত তারিখে,কিভাবে হয়েছে স্পট দিয়ে উল্লেখ করা আছে”

ফ্যাক্ট-চেক: দাবিটি বিভ্রান্তিকর। 

ভলকার তুর্কের তত্ত্বাবধানে OHCHR Fact-Finding Report: Human Rights Violations and Abuses related to the Protests of July and August 2024 in Bangladesh  নামক প্রতিবেদনের ১০ম পৃষ্ঠায় ‘স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং বিভিন্ন সংস্থা থেকে সরবারহকৃত তথ্যের’ ভিত্তিতে আনুমানিক ১৪০০ মৃত্যুর ধারণা প্রকাশ করা হয়। তবে এই ১৪০০ জন “কোথায়, কোন জায়গায়, কত তারিখে,কিভাবে”, এই সম্পর্কিত কোন বিস্তারিত তালিকা বা তথ্য উক্ত প্রতিবেদনে নেই, যা মনিরা শারমিন তার বক্তব্যে দাবি করেছেন।