বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রীর ‘দেশের ইতিহাসে জ্বালানির রেকর্ড মজুদ’ এর দাবিটি সঠিক নয়

ফ্যাক্ট চেক জোন টিম

“দেশের ইতিহাসে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি জ্বালানি মজুদ রয়েছে” বলে তথ্য দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। দেখুন 

তবে Fact Check Zone নানা তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত করেছে প্রতিমন্ত্রীর এই দাবি সঠিক নয়।

বর্তমানে দেশের মজুদ কত?

বাংলাদেশে মোট জ্বালানি চাহিদার ৭০ শতাংশই ডিজেল। দৈনিক ডিজেলের চাহিদা ১২ থেকে ১৩ হাজার মেট্রিক টন। দেখুন 

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) পর্যন্ত দেশে ডিজেলের মজুদ ছিল ১ লাখ ৫৫ হাজার টন। যা দিয়ে মূলত ১৩ দিনের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব৷

এর বাইরে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) তিনটি এবং আগামী রবিবার (১৯ এপ্রিল) আরো একটি ট্যাংকার আসার কথা রয়েছে। ৪টি ট্যাংকারে করে সর্বমোট আসছে ১ লাখ ৪১ হাজার টন ডিজেল যা দিয়ে প্রায় ১২ দিনের চাহিদা মেটানো যাবে।

নতুন ৪টি ট্যাংকারের ডিজেল খালাস হলে তা ২ লাখ ৯৬ হাজার টনে বেড়ে দাঁড়াবে প্রায়। মোট মজুদ ডিজেল দিয়ে প্রায় ২৫ দিনের চাহিদা পূরণ করা যাবে। দেখুন বিস্তারিত 

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রীর দাবিমতে ২৫ দিনের মজুদই বাংলাদেশের ইতিহাসে রেকর্ড।

 

বাস্তবতা ভিন্ন:

২৫ দিনের মজুদই বাংলাদেশের ইতিহাসে রেকর্ড নয়৷ ফ্যাক্ট-চেক জোনের অনুসন্ধানে সেরকম তথ্যই উঠে এসেছে। সচরাচর জ্বালানী মন্ত্রণালয় বা বিপিসি থেকে নিয়মিত জ্বালানীর মজুদের পরিমাণ জনসাধারণের জন্য প্রকাশ করা হয়না৷ তবে বিশেষ মুহূর্তে তারা আপডেট দিয়ে থাকে৷

২০২২ সালের ২৭ জুলাই সংবাদ সম্মেলনে বিপিসি’র চেয়ারম্যান জানান “দেশে ৩২ দিনের ডিজেল ও ফার্নেস অয়েল মজুদ রয়েছে “। এছাড়াও পরবর্তী ৬ মাসের জ্বালানীর যোগান নিশ্চিত করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
বিস্তারিত 

 

প্রায় ৫ লাখ টন ডিজেলের মজুদ রেখে গিয়েছিল বিগত আওয়ামী লীগ সরকার:

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ২০২৪ সালের ৭ আগস্ট পর্যন্ত দেশে মজুত ছিল ৪ লাখ ৮৭ হাজার ৩৭১ মেট্রিক টন ডিজেল, ৫৬ হাজার ২৩২ মেট্রিক টন জেট ফুয়েল, ৩৭ হাজার ১৭০ মেট্রিক টন অকটেন, ২ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪ মেট্রিক টন পেট্রোল এবং ৫৮ হাজার ৭৭৭ মেট্রিক টন ফার্নেস অয়েল।

এই পরিমাণ মজুদ থেকে আরো ৬ দিনের জ্বালানি খরচ করার পর ১৪ আগষ্ট বিপিসির কর্মকর্তা জানান,” যে মজুত তা দিয়ে ৩৩ দিনের ডিজেল, ১৫ দিনের অকটেন ও ১৪ দিনের পেট্রোল চাহিদা মেটানো যাবে।” ইত্তেফাকের এই প্রতিবেদনে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ৩৫ থেকে ৪০ দিনের জ্বালানি মজুত রাখা হতো বলে নিশ্চিত করা হয়। বিস্তারিত

সমস্ত তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ২লাখ ৯৬ হাজার টন ডিজেল তথা ২৫ দিনের মজুদকে রেকর্ড হিসেবে দাবি করলেও এই মজুদ রেকর্ড নয়৷ ২০২৪ সালের ৭ আগষ্টও ডিজেলের মজুদ ছিল ৪ লাখ ৮৭ হাজার টন৷ একই মাসের ১৪ আগষ্ট ছিল ৩৩ দিনের মজুদ৷ যা বর্তমানের মজুদের তুলনায় অনেক বেশি। এমনকি ২০২২ সালের জুলাই মাসেও ৩২ দিনের মজুদের তথ্য পাওয়া যায়।

ফ্যাক্ট-চেক জোন সিদ্ধান্ত: বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রীর ‘রেকর্ড মজুদ’ এর দাবিটি সঠিক নয়।

Share on Social Media

Previous Post
Next Post

Related Posts

Find Us On Social Media

সর্বশেষ প্রকাশিত

Ownership & Funding:

An initiative of THE

BRICKLANE NEWS LIMITED

(Company No-10776054)

You have been successfully Subscribed! Ops! Something went wrong, please try again.

Related Links

Awards

Success Story

Address

Copyright © 2026 Fact Check Zone | An initiative of Bricklane News Ltd | All rights reserved.