ফ্যাক্ট চেকস
“নিজামীরা নির্দোষ ছিল”-এমন কিছু বলেননি বিচারপতি এস কে সিনহা
ফ্যাক্ট চেক

“নিজামীরা নির্দোষ ছিল”-এমন কিছু বলেননি বিচারপতি এস কে সিনহা


সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে “নিজামীরা নির্দোষ ছিল”- এমন একটি বক্তব্য সাবেক বিচারপতি এস কে সিনহার নামে ছড়িয়ে পড়েছে।

এইচ এম মাহমুদ হাসান নামে একজন একটিভিস্ট লিখেছেন, “সেই ফাঁসি কার্যকর ভূল ছিল! গতকাল একটি অনলাইন প্লাটফর্মে সুরেন্দ্র কুমার সিনহা যিনি বাংলাদেশের ২১ তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন তিনি সাক্ষাৎকার দেন।তার সময়টাই সিগনিফিকেন্ট বিচারগুলো হয়েছে। বিশেষ করে ৭১ এর মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার সংঘঠিত হয়।এবং তার রায়ের মাধ্যমেই মীর কাসেম আলী,আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ,গোলাম আযম, কামরুজ্জামান ও নিজামী সাহেব থেকে শুরু করে অন্যান্য নেতৃবৃন্দকে ফাঁসি দেয়া হয়।গতকাল অনলাইন প্লাটফর্মের একটি সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন এই বিচারিক রায় সম্পূর্ণ ভূল ছিল। একটি রায়ের মাধ্যমে নিরপরাধ এতগুলো সূর্য সন্তানদের ফাঁসি দেয়া হলো এটি লজ্জা জনক ইতিহাস হয়ে থাকবে।” দেখুন এখানে


একই ধরনের পোস্ট শেয়ার করা হয়েছে  ওয়ালিদ ওয়ালিদ, Amir Al-Hussain Al-Azamee  নামক আইডিগুলো থেকেও।

Mahfujur Rahman. 02 নামক একজন লিখেছেন, “ব্রেকিং নিউজ-জামায়াত নেতাদের হ’ত্যার বিনিময়ে হাসিনাকে আজীবন ক্ষমতায় রাখার কথা দিয়েছিল ভারত।-সাবেক বিচারপতি সিনহা” দেখুন

একই ধরনের পোস্ট শেয়ার করা হয়েছে আল্লামা দেলোয়ার হুসাইন সাঈদী পরিষদ ,Engr MA Aziz Masum , জামায়াতে ইসলাম যুব বিভাগ নামক গ্রুপ এবং আইডি গুলো থেকে।

 

ফ্যাক্ট-চেক

“নিজামীরা নির্দোষ ছিলেন”-এমন কোন উক্তি বিচারপতি এস কে সিনহা করেননি৷ এমনকি তিনি নিজামীর নামও উচ্চারণ করেন নি৷ বরং তিনি নিশ্চিত করেছেন পর্যাপ্ত সাক্ষ্য প্রমাণ ছিল বলেই যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্তরা শাস্তি পেয়েছে।

ফ্যাক্ট-চেক জোন এর অনুসন্ধানে দেখা গেছে মূলত ‘Republic TV USA’ নামক ইউটিউব চ্যানেলে ২০২৪ সালের ১০ নভেম্বর এস কে সিনহার প্রায় ২ ঘন্টার একটি সাক্ষাতকার আপলোড করা হয়েছে। উক্ত সাক্ষাতকারের খন্ডিতাংশই এখন নতুন করে ‘Republic TV USA ‘ এর ফেসবুক পেজ ‘Democracy and Justice Show’ তে আপলোড করা হয়। দেখুন ভিডিওআর্কাইভ ভিডিও

জামাত নেতাদের পরিকল্পিত ভাবে ফাঁসি দেয়া হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ভিডিওতে এস কে সিনহা বলেন, ” দেখেন এই আইনটা কনফ্লিক্টিং৷ সাধারণত সিভিল বা ক্রিমিনাল কোর্টে যে সাক্ষ্য নেয়া হয় ট্রাইব্যুনালে সেটা কমপ্লিটলি আলাদা।”

এক পর্যায়ে উপস্থাপক তাকে প্রশ্ন করেন, “আপনার কাছে রিভিউতে কাদের মোল্লা বা মীর কাসেম এর রায় এসেছিল, আপনি তাদের ফাঁসির রায় বহাল রেখেছিলেন কেন?”

জবাবে এস কে সিনহা বলেন, ” যেহেতু পর্যাপ্ত সাক্ষ্য প্রমাণ ছিল, তাই বহাল রেখেছি। আমি তো একা না৷ ৬-৭ জন বিচারক ছিলেন। আমরা সবাই একমত না হলে তো রায় বহাল থাকতো না।”

উপস্থাপক তাকে ফের প্রশ্ন করেন “আপনি কি কোন রায়ের অবজারভেশনে মনে হয়েছে যে আপনি পর্যাপ্ত সাক্ষ্য প্রমাণ পান নি?”

জবাবে এস কে সিনহা বলেন, ” দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর ক্ষেত্রে এরকম অবজারভেশন দিয়েছিলাম। তার ফাঁসির আদেশ তো আমিই বাতিল করেছি। সে জড়িত ছিল, কিন্তু সরাসরি খুনে জড়িত এরকম সাক্ষ্য ছিল না। যেহেতু সরাসরি থাকার সাক্ষী ছিল না, তাই আমি বললাম তার ফাঁসি হতে পারে না।”

এমনকি এক পর্যায়ে তাকে উপস্থাপক এই প্রশ্নও করেন, “এই বিচারকে রাজনৈতিক ভাবে ব্যবহার করা হয়েছে বলে মনে করা হয়। আপনি কি এর জন্য রিগ্রেট ফীল করেন?

এসকে সিনহা বলেন, “না। আমি আইনের বাইরে তো কিছু করিনি। এখনো যে ট্রাইব্যুনাল চলছে একই আইনে চলছে।

এছাড়াও “জামায়াত নেতাদের হ’ত্যার বিনিময়ে হাসিনাকে আজীবন ক্ষমতায় রাখার কথা দিয়েছিল ভারত”– এই ধরনের কোন উক্তিও তিনি করেননি। সম্পূর্ণ কথোপকথনে তিনি আইনের নানা সীমাবদ্ধতা নিয়ে বিশ্লেষণ করলেও, নিজামী বা অন্য যুদ্ধাপরাধীদের বিনা দোষে শাস্তি দেয়া হয়েছে এমন কথা একবারও বলেন নি।

জামাতপন্থী একটিভিস্টরা সাবেক এই বিচারপতির বক্তব্যকে বিভ্রান্তিকর ভাবে উপস্থাপন করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়াচ্ছেন। মূল বিভ্রান্তি টা ছড়িয়েছে ‘Democracy and Justice Show’ পেজটি নিজেই। তাদের ফেসবুক পেজে দেখা যায় ভিডিও থাম্বনেইলে নিজামীর ছবি দিয়ে টাইটেল দিয়েছে “ফাঁসি দেয়ার পর বিচারক এখন বলছেন নিজামীরা নির্দোষ ছিলেন”

 

ফ্যাক্ট-চেক জোন সিদ্ধান্ত: “নিজামীরা নির্দোষ ছিল”-এমন কিছু বলেননি বিচারপতি এস কে সিনহা