ফ্যাক্ট চেকস
‘ফিটনেস ধরে রাখতে বাচ্চাকে দুধ খাওয়ায় না মা!’-বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে ইনকিলাব মঞ্চের নারী বিদ্বেষী বার্তা
বিভ্রান্তিকর

‘ফিটনেস ধরে রাখতে বাচ্চাকে দুধ খাওয়ায় না মা!’-বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে ইনকিলাব মঞ্চের নারী বিদ্বেষী বার্তা

“বাংলাদেশের ৫৫% মা শারীরিক গঠন (ফিটনেস) ধরে রাখতে বাচ্চাকে দুধ খাওয়ায় না” বলে মন্তব্য করেছেন ‘ইনকিলাব মঞ্চ’ এর সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। তিনি আরো বলেন, “বুকের দুধ না পাওয়ায় ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হওয়ায় বাচ্চাদের মাঝে হাম ছড়াচ্ছে।” দেখুন এখানে, এখানে

 

পরিসংখ্যান বা গবেষণা কী বলে?

ইনকিলাব মঞ্চের জাবের এর দেয়া ‘৫৫% শিশু মায়ের দুধ বঞ্চিত হওয়ার’ পরিসংখ্যান পুরোপুরি সঠিক নয়। বাংলাদেশ জাতীয় পুষ্টি পরিষদ বিডিএইচএসের তথ্যমতে, বর্তমানে প্রায় ৪৫% বাচ্চা মায়ের দুধ থেকে বঞ্ছিত হয়।  ২০২৫ সালের আগস্টে ‘বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ’ উপলক্ষে এই তথ্যগুলো প্রকাশ করে বিডিএইচএস। দেখুন এখানে

ফিটনেস ধরে রাখতেই দুধ খাওয়ায় না?

গবেষণামতে, ‘৪৫% শিশু মাতৃদুগ্ধ বঞ্চিত’ হওয়ার মূল কারণ ‘ফিটনেস রক্ষা’ নয়, বরং কর্মজীবী নারীর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং কর্মস্থলে ব্রেস্ট ফিডিং করানোর পরিবেশ না থাকাকেই দায়ী করা হচ্ছে।  বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “নগরায়ণ ও কর্মজীবী নারীর হার বেড়ে যাওয়া এবং কর্মজীবী মায়েদের জন্য সুষ্ঠু পরিবেশসহ বুকের দুধ পান করানোর পর্যাপ্ত কর্নার না থাকা। সেইসঙ্গে ফর্মুলা দুধ উৎপাদক ও বাজারজাতকারীদের বিজ্ঞাপনের কারণে দিনদিন সন্তানকে মাতৃদুগ্ধ পানের হার কমছে।” দেখুন এখানে

‘ইনকিলাব মঞ্চ’ কি নারী বিদ্বেষী অবস্থান নিচ্ছে?

বাংলাদেশের প্রচলিত সমাজব্যবস্থায় মাতৃত্ব ও সন্তানের প্রতি যত্নশীলতা এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমাদের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট ও ধর্মীয় রক্ষণশীলতার বাস্তবতায়, শহরের মুষ্টিমেয় এলিট শ্রেণীর বাইরে সাধারণ নারীদের নিজের ন্যূনতম শারীরিক ফিটনেসের দিকে তাকানোর সুযোগ বা সময় হয়ে ওঠে না। বিশেষত প্রসঙ্গ যখন হাম এবং এর আক্রান্তের সিংহভাগই নিম্ম-মধ্যবিত্ত পরিবারের শিশুরা, সেখানে ‘ফিটনেস রক্ষার’ তাগিদে বাচ্চাকে বুকের দুধ বঞ্চিত করে রাখার চিন্তা মধ্যবিত্ত বা নিম্ম-মধ্যবিত্ত সমাজের মায়েদের জন্য অসম্ভব কল্পনা।
এমন বাস্তবতায় সমগ্র বাঙালী মাতৃসমাজকে ঢালাওভাবে ‘ফিটনেস’ রক্ষায় বাচ্চাকে মাতৃদুগ্ধ থেকে বঞ্চিত’ করার দায়ে অভিযুক্ত করা কেবল দেশের নারী সমাজের জন্য চরম অপমানজনকই নয়, বরং এটি স্পষ্ট নারী বিদ্বেষের বহিঃপ্রকাশ।
সংগঠনটির সদস্য সচিব যখন দাবি করেন যে, “নারীরা বিদেশী সংস্কৃতি তথা অপসংস্কৃতিতে প্রভাবিত হচ্ছেন”, তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—তিনি কি এই একবিংশ শতাব্দীতে এসে নারীদের ঘরের বাইরে এসে কর্মজগতে নিজেদের অবস্থান তৈরি করাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাইছেন? মূলত ‘ইনকিলাব মঞ্চ’ নামক এই ডানঘেঁষা সংগঠনটি বিভিন্ন সময়ে নানা আপত্তিকর স্লোগানের মাধ্যমে সুপরিকল্পিতভাবে নারী বিদ্বেষকে প্রমোট করে এসেছে। ফলশ্রুতিতে, চলমান সংকটেও তাদের এমন চরম নারী বিদ্বেষী অবস্থান থাকাটা মোটেও অস্বাভাবিক নয়।