ফ্যাক্ট চেকস
প্রেমিক এবং সহপাঠীদের দ্বারা ধর্ষণকে ট্রাইব্যুনালে ‘আওয়ামী লীগ নেতা দ্বারা ধর্ষণের গল্প’ হিসেবে উপস্থাপন! “বাকশালের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড ছিলেন শেখ মনি”- শফিকুলের এই দাবি মিথ্যা ‘ঢাকেশ্বরী মন্দিরের জমি আওয়ামী লীগ দখল করেছে’; স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন দাবি সত্য নয়! ৬ মাসের মধ্যেই মালয়েশিয়াতে যাবে ২ লাখ জানালেন প্রতিমন্ত্রী, মালয়েশিয়ার প্রত্যাখান! মাথাবিহীন নারীর লাশ: বিদেশী ওয়েবসাইট থেকে সংগৃহীত ছবিকে নাটোর আওয়ামী লীগের নেত্রীর হত্যাকান্ড দাবিতে গুজব প্রচার! আদানির বিদ্যুৎ নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিল যুগান্তর “আমেরিকায় ১ মিনিট লোডশেডিং হলে লক্ষ লক্ষ ধর্ষণ হবে”–শিবির নেতা ফরহাদের দাবিটি ভিত্তিহীন
কথিত ‘মুক্তিযোদ্ধা’ জামাত এমপি গাজী নজরুলের নেই মুক্তিযোদ্ধা সনদ, সংসদে দাঁড়িয়ে করেন বিকৃত ইতিহাস প্রচার!
বিভ্রান্তিকর

কথিত ‘মুক্তিযোদ্ধা’ জামাত এমপি গাজী নজরুলের নেই মুক্তিযোদ্ধা সনদ, সংসদে দাঁড়িয়ে করেন বিকৃত ইতিহাস প্রচার!

নারীকান্ডে বিতর্কিত এবং বহিষ্কৃত জামাত এমপি গাজী নজরুল ইসলাম এবং তার দল জামাত তাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরিচয় দিলেও, তার মুক্তিযোদ্ধা সনদ নেই। তারপরও নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দাবি করা প্রসঙ্গে তিনি জানান আওয়ামী লীগ সরকার আমলে তার মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিল করা হয়েছিল

এদিকে নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা দাবি করা এই এমপি সংসদে দাঁড়িয়ে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিকৃত ইতিহাস প্রচারে সিদ্ধহস্ত। গত ২৫শে জুন জাতীয় সংসদে  গাজী নজরুল ইসলাম জানান,-“রাজাকারের যে তথ্য স্বাধীনতার পরে দেয়া হয়েছিল, সেখানে ‘আওয়ামী লীগে ১০৮০, বিএনপিতে ৭০০, জামাতে ৩৩ জন রাজাকার ছিল। এই সংজ্ঞা ৭১ এর পরের আওয়ামী লীগের দেয়া সংজ্ঞা ” ভিডিও

গাজী নজরুল ইসলামের এইসব দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং একাধিক অসঙ্গতিপূর্ণ। তিনি দাবি করেছেন বিএনপিতে ৭০০ রাজাকার ছিল এবং এই তথ্য স্বাধীনতার পর দেয়া হয়েছিল। অথচ বিএনপি দলটির জন্ম হয়েছে ১লা সেপ্টেম্বর ১৯৭৮ সালে। 

স্বাধীনতার পর  একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারীদের ১৯৭২ সালের দালাল আইনের অধীনে ৩৭ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। তবে  কোন দলে কতজন রাজাকার এই ধরনের আলাদা কোন তালিকা প্রণয়ন করা হয়নি।তাই জামাতের মাত্র ৩৩ জন ছিল, এই ধরনের দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা। এ বিষয়ে ফ্যাক্ট-চেক জোনের ২৯ শে জুন প্রকাশিত ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিবেদন

নারী বিতর্ক

সম্প্রতি এক কিশোরীর সাথে এই জামাত নেতার অন্তরঙ্গ একটি ভিডিও ক্লিপস ভাইরাল হয়। সিসিটিভি বলে দাবি করা সেই ক্লিপসে টাইম স্টাম্পে ২০২৩ এর ভিডিও বলে দাবি করা হলেও, ভিডিওটি ২০২৬ এর নির্বাচনের পরের বলে নিশ্চিত হয়েছে ফ্যাক্ট-চেক জোন। নজরুল ইসলামের আরেকটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দেখা যায় স্থানীয় ব্যক্তিদের হাতেনাতে মেয়েসহ ধরা পড়েন। ভিডিওতে তাকে বলতে দেখা যায়, “আমি ওকে নিয়ে একবারই আসছি। আমার অন্যায় হয়েছে আমাকে ক্ষমা করে দেন।” ভিডিও লিংক 

উক্ত ভিডিওতে জনতা তার একটি আইডি কার্ড উদ্ধার করে যেটি ১৩ তম জাতীয় সংসদের এমপি’র পরিচয়পত্র। অন্তরঙ্গ ভিডিওটি এবং জনতার হাত ধরা খাওয়ার ভিডিও- এই দুটি ভিডিও বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হওয়া যায় ঘটনা একইদিনের এবং সাথে থাকা মেয়েটিও একই ব্যক্তি। দুটি ভিডিওতেই এমপি নজরুল ইসলাম এবং সঙ্গে থাকা নারীর পোশাক, বিছানার চাদর, দেয়াল, ফ্লোর ইত্যাদির অবস্থান ইত্যাদিতে হুবহু একই।

ভিডিও ফাঁস হওয়ার পর মিথাচার

ভিডিও ফাঁস হওয়ার পর উক্ত নারীকে গাজী নজরুল নিজের ২য় স্ত্রী দাবি করে জানান এ বছরের ১৭ জুন তিনি পারিবারিক সম্মতিতে ২য় বিয়ে করেছেন। এর স্বপক্ষে একটি কাবিননামার ছবিও শেয়ার করা হয়।

তবে ১৭ জুন তিনি মেয়েটিকে বিয়ে করেছেন দাবি করলেও, ২২ জুন উক্ত নারীর বায়োডাটায় এমপি স্বাক্ষর করে চাকরির সুপারিশ করেন। বায়োডাটাটিতে মরিয়ম খাতুনের বৈবাহিক অবস্থা ‘অবিবাহিত’ বলে উল্লেখ রয়েছে। এদিকে ১৭ জুন বিয়ে করেছেন বলে এমপি গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করলেও কোথায় বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে তা কাবিননামা নিবন্ধনকারী কাজি জানেন না। কাজি জানিয়েছেন তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে গত পরশু (সোমবার) দিবাগত রাতে। তার পরই ঢাকা থেকে ফোনে দেওয়া তথ্য দিয়ে তিনি কাবিননামা প্রস্তুত করেছেন। অর্থাৎ কেলেংকারি ফাঁস হওয়ার পর পিঠ বাঁচাতে তিনি ব্যাকডেটে কাবিননামা বানিয়ে নিজের পিঠ বাঁচানোর শেষ প্রচেষ্টা চালান।  দেখুন

পর্দাপ্রথা নিয়ে তিনি বেশ সরব!

জামাতের এই বহিষ্কৃত নেতাকে বিভিন্ন সময় পর্দাপ্রথা নিয়ে অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে দেখা গেছে। নতুন করে ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে তাকে বলতে দেখা যায়, “মেয়েরা শালীনভাবে চলবে। মাথার যে কাপড়টা, একটা পর্দা মাথার ওপরে রাখবে। আমরা চাই মেয়েরা শালীনভাবে চলুক, যাতে করে তাদের শরীরটা বাইরে বের না হয়।” দেখুন

শুধু তাই নয়, দলীয় অনুষ্ঠানেও নারীদের সামনে তাকে কঠোড় অনুশাসনের মধ্যে চলতে দেখা যায়। ভাইরাল আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, মঞ্চের সামনে পর্দা বসিয়ে তিনি নারীদের পর্দার পেছনে রেখে বক্তৃতা দেন। ভিডিও

পর্দার আড়াল থেকে ভাষণ দিচ্ছেন নজরুল

 

নানা আলোচনা-সমালোচনার পর জামাত থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন গাজী নজরুল। তবে সাংসদ পদে বহাল থাকছেন কিনা সেটি এখনো নিশ্চিত নয়।