ফ্যাক্ট চেকস
“বঙ্গবন্ধু আমলে রেডিও-টিভিতে আজান বন্ধ করে দেয়া হয়”-দাবিটি সত্য নয়! তথ্য এড়িয়ে ন্যারেটিভ প্রতিষ্ঠা: জাসদের প্রতিনিধি সভা ও মূলধারার গণমাধ্যমের ফ্রেমিং! প্রেমিক এবং সহপাঠীদের দ্বারা ধর্ষণকে ট্রাইব্যুনালে ‘আওয়ামী লীগ নেতা দ্বারা ধর্ষণের গল্প’ হিসেবে উপস্থাপন! “বাকশালের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড ছিলেন শেখ মনি”- শফিকুলের এই দাবি মিথ্যা ‘ঢাকেশ্বরী মন্দিরের জমি আওয়ামী লীগ দখল করেছে’; স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন দাবি সত্য নয়! ৬ মাসের মধ্যেই মালয়েশিয়াতে যাবে ২ লাখ জানালেন প্রতিমন্ত্রী, মালয়েশিয়ার প্রত্যাখান! মাথাবিহীন নারীর লাশ: বিদেশী ওয়েবসাইট থেকে সংগৃহীত ছবিকে নাটোর আওয়ামী লীগের নেত্রীর হত্যাকান্ড দাবিতে গুজব প্রচার!
“বঙ্গবন্ধু আমলে রেডিও-টিভিতে আজান বন্ধ করে দেয়া হয়”-দাবিটি সত্য নয়!
আলোচিত ফ্যাক্টচেক

“বঙ্গবন্ধু আমলে রেডিও-টিভিতে আজান বন্ধ করে দেয়া হয়”-দাবিটি সত্য নয়!

সম্প্রতি প্রফেসর দিলারা চৌধুরী দাবি করেছেন, “ শেখ মুজিব স্বাধীনতার পর রেডিও, টিভিতে আজান বন্ধ করে দেন। পরবর্তীতে সেটা তিনি এক জনসভায় এক বয়স্ক ব্যক্তির অনুরোধে পুণরায় চালু করার নির্দেশ দেন। “ তিনি আরো দাবি করেন, শেখ মুজিব মাদ্রাসা বন্ধ করারও প্রচেষ্টা চালান। দিলারার বক্তব্য

 

ফ্যাক্ট-চেক

প্রফেসর দিলারার এসব দাবি সত্য নয়।

রেডিও, টেলিভিশনে পাকিস্তান আমলে আজান প্রচারিত হতো না। তাই স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু আমলে আজান বন্ধ করার প্রশ্নও আসেনা। তবে সেই সময়ে রেডিও, টিভিতে কোরআন তেলাওয়াত হতো। মূলত সেই সময়ে রেকর্ডেড আজান প্রচার নিয়ে আলেম সম্প্রদায়ের মধ্যে রক্ষনশীল ধারণা ছিল।

১লা আগস্ট,১৯৭৫ এর পত্রিকায় প্রকাশিত টিভির অনুষ্ঠানসুচীতে কোরআন তেলাওয়াত

ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, বাংলাদেশে সর্বপ্রথম রেডিও, টিভিতে আজান চালু করা হয় এরশাদ আমলে। ঠিক কোন সময়ে এটি চালু হয়েছিল তা নির্দিষ্ট করে কোন ইতিহাস বা স্মৃতিকথায় পাওয়া না গেলেও, ৮৩-৮৪ সালের মধ্যে কোন এক সময়ে এই প্রথা চালু হয়েছিল বলে জানা যায়। (দেখুন ইনকিলাবের প্রতিবেদন, দেশ রুপান্তরের প্রতিবেদন)

দিলারা চৌধুরীর আরেকটি দাবি ছিল, মুজিব সরকার মাদ্রাসা বন্ধের প্রচেষ্টা চালিয়েছিলো। তবে বাস্তবে সেই সময়ের পেপার পত্রিকা ঘেঁটে এর কোন সত্যতা পাওয়া যায় না। এই প্রসঙ্গে  ‘বঙ্গবন্ধু হত্যার দলিল’ গ্রন্থের ২৫২ ও ২৫৩ পৃষ্ঠায় প্রকাশিত  গুলশান কেন্দ্রীয় মসজিদের খতিব আলহাজ্ব মাওলানা আবদুস সালাম ও কাপাসিয়া মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা ওয়ারেছ আলীর সাক্ষাতের ঘটনাটি প্রণিধানযোগ্য।

বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ৮ দিনের মাথায় ১৮ জানুয়ারি তার সঙ্গে গুলশান কেন্দ্রীয় মসজিদের খতিব আলহাজ্ব মাওলানা আবদুস সালাম ও কাপাসিয়া মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা ওয়ারেছ আলীর সাক্ষাৎ ঘটে। তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের মাধ্যমে বঙ্গভবনে এ সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনার এক পর্যায়ে বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘কেউ কেউ হয়তো ভাবছে, বঙ্গবন্ধুর সরকার মাদরাসা শিক্ষার পক্ষে নয়। কিন্তু আমি তো মুসলমানের ছেলে। মাদরাসা শিক্ষা কি বলছেন, আমি স্কুল কলেজেও কোরআন-হাদিসের শিক্ষাক্রম চালু করবো। তবে ইসলাম নিয়ে যারা বণিজ্য করেছে তাদেরকে ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করতে দেবো না।’

তিনি বলেন, ‘আপনাদের ইসলামি প্রজাতন্ত্র পাকিস্তান তো মদ, জুয়া, রেসের মতো অবৈধ ও ইসলামবিরোধী কাজকেও আইন করে হালাল করে দিয়েছিলো। দেখবেন, সহসাই আমি এসব বাতিল করে দেবো। আমার ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্রেও কী করে ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়, বসে বসে শুধু দেখবেন।’ অতঃপর তিনি তাজউদ্দীন আহমদকে ডেকে অবিলম্বে মাদরাসাগুলো খুলে দেওয়ার এবং পাকিস্তান আমলে শিক্ষকগণ যেভাবে যা পেতো (সরকারি অনুদানসমূহ) সেভাবেই তাদের সকল পাওনা পরিশোধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি অন্যায়ভাবে কোনো আলেমের প্রতি যাতে কোনো অবিচার না হয়, সে দিকে খেয়াল রাখার কথাও বলেন।“

রেফারেন্স-

১) ourislam24.com এ প্রকাশিত প্রতিবেদন

২) barta24 এ প্রকাশিত প্রতিবেদন