ফ্যাক্ট চেকস
চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতাকে অস্বীকার করে সংসদে প্রতিমন্ত্রীর ‘অসত্য’ ভাষণ! মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় ফজলুর রহমানের নাম না থাকার দাবিটি গুজব! ‘ভুয়া’, ‘নিবন্ধনহীন’ পোর্টালকে সূত্র ধরে রুপপুরে ৫ বিলিয়ন ডলার দুর্নীতির দাবি গণমাধ্যমে! বিএনপি সরকারের ২ মাসেই রাডার! ‘ভারতের হাতে বাংলাদেশের আকাশ’ সহ একাধিক গুজবের ‘ঝড়’! ‘অস্তিত্বহীন’ টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে স্পীকারের ভুল তথ্য, সংবাদমাধ্যমে ‘মিথ্যা’ ছবি প্রচার ইউনিসেফের লেটার প্যাডে ভুয়া অপ্রাসঙ্গিক চিঠি, ‘অন্তর্বর্তী সরকার আমলে ১ হাজার কোটি টাকার টিকা আমদানি’র গুজব ছড়ালেন পিনাকী ব্যারিস্টার ফুয়াদের গলায় ‘জুতার মালা’ পরিয়ে ঘোরানোর ছবিটি এআই
‘অস্তিত্বহীন’ টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে স্পীকারের ভুল তথ্য, সংবাদমাধ্যমে ‘মিথ্যা’ ছবি প্রচার
ফ্যাক্ট চেক

‘অস্তিত্বহীন’ টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে স্পীকারের ভুল তথ্য, সংবাদমাধ্যমে ‘মিথ্যা’ ছবি প্রচার

আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বাংলাদেশের নেতৃত্বেই টিপাইমুখ বাঁধ চালু করা হয়, যা সর্বনাশ ডেকে এনেছিল বলে মন্তব্য করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, ‘টিপাইমুখ বাঁধ, এটি বাংলাদেশেরই পররাষ্ট্রমন্ত্রী (১৯৯৬-২০০১) আব্দুস সামাদ আজাদের অনুরোধে চালু করেছিল ভারত। তখন আমরাই নিজেদের সর্বনাশ ডেকে এনেছিলাম।’ বিস্তারিত 

ফ্যাক্ট-চেক জোন এর অনুসন্ধানে দেখা গেছে স্পিকারের এই তথ্য সঠিক নয়। বাস্তবে টিপাইমুখ বাঁধ কখনো তৈরীই করা হয়নি। বাংলাদেশ এবং ভারতের পরিবেশবাদীদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে এই প্রকল্প দীর্ঘকাল ধরে আটকে আছে। এ বিষয়ে কী ওয়ার্ড সার্চ করতে গিয়ে ভারতীয় গণমাণমাধ্যম Mint এর ২০২৪ সালের ২৬ শে আগস্টের একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। সেখানেও উল্লেখ করা হয় দীর্ঘ কাল ধরেই এই ‘টিপাইমুখ প্রকল্প’ বাংলাদেশের নানা আপত্তিতে আটকে আছে। দেখুন

সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
১৯৮০ সালে ভারতের বরাক নদে বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষি সেচ সুবিধা পেতে ভারতে প্রথমবারের টিপাইমুখে বাঁধের স্থান নির্ধারণ করে। স্থান নির্ধারণের আরো ২ দশক আগে থেকেই এই নদে বাঁধ দেয়ার আলোচনা হচ্ছিল। ১৯৯৩ সালে বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। তবে ভারতের কিছু অঞ্চলে বিরূপ প্রভাবের কথা চিন্তা করে তখন থেমে যায় উদ্যোগটি। পরে আবার উদ্যোগ নেয়া হয়। ১৯৯৯ সালের ৯ জানুয়ারি মণিপুর রাজ্য সরকার টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণে সরকারের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করে। ২০০৬ সালে বাঁধের ঠিকাদার নির্বাচন করতে বিজ্ঞাপন প্রকাশ পায়। বাঁধের ডিজাইন চুড়ান্ত হয় ২০০৮ সালে। তবে শুরু থেকেই বাংলাদেশ এবং ভারত, দুই দেশেই এই বাঁধের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে ওঠে৷ বাংলাদেশ সরকার বারবার এই বাঁধ নিয়ে তীব্র আপত্তি জানায়৷ তখন থেকেই এই প্রকল্প আলোর মুখ দেখেনি৷

বাংলাদেশী শীর্ষ গণমাধ্যমে টিপাইমুখ বাঁধের নামে ভুল ছবি প্রচার

সংসদে স্পীকার মেজর হাফিজের এই মন্তব্যের পর বিভিন্ন গণমাধ্যমে টিপাইমুখ বাঁধের নামে একটি বাঁধের ছবি প্রচার করা হচ্ছে।
এখানেএখানে, এখানে

ফ্যাক্ট-চেক জোন এর অনুসন্ধানে আরো দেখা গেছে, এই ‘কথিত টিপাইমুখ বাঁধের’ ছবি দীর্ঘদিন ধরেই নানা সময়ে প্রচার করে এসেছে সংবাদমাধ্যমগুলো।
২০১৮ সালের প্রতিবেদন

২০০৯ সালে বিবিসির প্রতিবেদনেও একই ছবি

বাস্তবে, এই ছবিটি ভারতের হিমাচল প্রদেশের ‘চামেরা বাঁধ’ এর ছবিদেখুন স্টক ছবি

এছাড়াও ইউটিউবে কী ওয়ার্ড সার্চে ‘চামেরা বাঁধ’ এর ভিডিও পাওয়া যায়, যা হুবহু বাংলাদেশের গণমাধ্যমে প্রচারিত ‘টিপাইমুখ বাঁধ’ এর সাথে মিলে যায়। ভিডিও
আরেকটি ভিডি 

 

আওয়ামী লীগের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদের অনুরোধে টিপাইমুখ বাঁধ পরিকল্পনা করেছিল ভারত?

আওয়ামী লীগের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুস সামাদের অনুরোধে টিপাইমুখ বাঁধ পরিকল্পনা হাতে নেয়া বিষয়ক স্পীকার মেজরে হাফিজের দেয়া তথ্যটিও সঠিক নয়৷ এ বিষয়ে ২০১৮ সালে সংসদে দাঁড়িয়ে জাতীয় পার্টির নেতা সাবেক মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ নিশ্চিত করেন ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টি সরকারই বন্যা নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে ভারতকে টিপাইমুখ বাঁধের অনুরোধ করেদেখুন

ফ্যাক্ট-চেক জোন সিদ্ধান্ত:
১) টিপাইমুখে কোন বাঁধই নির্মাণ হয়নি
২) ভারতের ‘চামেরা বাঁধ’ এর ছবিকে ‘টিপাইমুখ বাঁধ’ এর ছবি বলে প্রচার করা হচ্ছে বাংলাদেশী গণমাধ্যমে
৩) আওয়ামী লীগ সরকার নয়, জাতীয় পার্টি সরকারই ১৯৮৮ সালে ভারতকে টিপাইমুখে বাঁধ নির্মাণের অনুরোধ করে।