ফ্যাক্ট চেকস
“বঙ্গবন্ধু আমলে রেডিও-টিভিতে আজান বন্ধ করে দেয়া হয়”-দাবিটি সত্য নয়! তথ্য এড়িয়ে ন্যারেটিভ প্রতিষ্ঠা: জাসদের প্রতিনিধি সভা ও মূলধারার গণমাধ্যমের ফ্রেমিং! প্রেমিক এবং সহপাঠীদের দ্বারা ধর্ষণকে ট্রাইব্যুনালে ‘আওয়ামী লীগ নেতা দ্বারা ধর্ষণের গল্প’ হিসেবে উপস্থাপন! “বাকশালের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড ছিলেন শেখ মনি”- শফিকুলের এই দাবি মিথ্যা ‘ঢাকেশ্বরী মন্দিরের জমি আওয়ামী লীগ দখল করেছে’; স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন দাবি সত্য নয়! ৬ মাসের মধ্যেই মালয়েশিয়াতে যাবে ২ লাখ জানালেন প্রতিমন্ত্রী, মালয়েশিয়ার প্রত্যাখান! মাথাবিহীন নারীর লাশ: বিদেশী ওয়েবসাইট থেকে সংগৃহীত ছবিকে নাটোর আওয়ামী লীগের নেত্রীর হত্যাকান্ড দাবিতে গুজব প্রচার!
তথ্য এড়িয়ে ন্যারেটিভ প্রতিষ্ঠা: জাসদের প্রতিনিধি সভা ও মূলধারার গণমাধ্যমের ফ্রেমিং!
আলোচিত ফ্যাক্টচেক

তথ্য এড়িয়ে ন্যারেটিভ প্রতিষ্ঠা: জাসদের প্রতিনিধি সভা ও মূলধারার গণমাধ্যমের ফ্রেমিং!

২৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে গুলিস্তানে জাসদের কার্যালয় থেকে শতাধিক আওয়ামী লীগের নেতা কর্মী আটক হওয়ার খবর প্রকাশ করেছে একাধিক সংবাদমাধ্যম। এসব সংবাদমাধ্যম থেকে জানা যায়, দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডিতে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ঝটিকা মিছিল বের করেন। এ সময় মিছিল থেকে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।ধানমন্ডির ওই মিছিলে অংশ নেওয়া অনেকে পরে গুলিস্তানে জাসদের কার্যালয়ে গিয়ে আশ্রয় নেন বলে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়।বিষয়টি জানতে পেরে যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম নয়ন ও পল্টন থানা যুবদলের নেতাকর্মীরা জাসদ কার্যালয় ঘিরে রাখেন এবং সেখানে মব তৈরি করেন। পরে সেখানে ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের ডিসি হারুন অর রশীদসহ বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য উপস্থিত হন।

বিকাল চারটার দিকে জাসদের কার্যালয় থেকে একে একে অনেককে হাতকড়া পরিয়ে বের করে নিয়ে যেতে দেখা যায়।

যমুনা টিভিতে প্রকাশিত সংবাদ

 

অনুসন্ধানে দেখা যায়, আজ (২৬ সেপ্টেম্বর) জাসদের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সভা পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচী ছিল। উক্ত কর্মসূচীর অন্তত ২দিন আগে ২৪ সেপ্টেম্বর  উপ-পুলিশ কমিশনার, কাকরাইল জোন কার্যালয়, ডিএমপি বরাবর জাসদের দফতর সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন সাক্ষরিত অনুমতি এবং নিরাপত্তা  চেয়ে আবেদন পত্র জমা দেয়া হয়। সেই অনুমতির আবেদন  কপি ফ্যাক্ট-চেক জোনের হাতে এসেছে।

উল্লেখ্য উক্ত প্রতিনিধি সভা বিষয়ক প্রকাশ্য প্রচারণাও চালাতে দেখা যায় জাসদের নেতাকর্মীদের। মিটিং চলাকালে জাসদের একাধিক পদধারী নেতাকেও মিটিং এর ছবি, ভিডিও শেয়ার করতে দেখা যায়।

জাসদের সহ-সভাপতি শফি উদ্দিন মোল্লার ফেসবুক পোস্ট

 

জাসদ নেত্রী শিল্পী হোসাইনের আইডিতে কর্মসূচী চলাকালীন ভিডিও

দফতর সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেনের ফেসবুক পোস্ট

 

যেভাবে জাসদের কর্মসূচীকে ‘আওয়ামী লীগ’ ট্যাগ দিয়ে ফ্রেমিং করলো একাধিক মিডিয়া!

জাসদের এই প্রকাশ্য কর্মসূচীকেই রহস্যজনকভাবে একাধিক মিডিয়া ‘আওয়ামী লীগ’ ট্যাগ দিয়ে ফ্রেমিং করেছে।

যমুনা টিভি শিরোনাম করেছে “জাসদ কার্যালয়ে পুলিশের অভিযান, বিপুল সংখ্যক আ. লীগ নেতাকর্মী আটক“। তাদের পুরো সংবাদেই নেই জাসদের প্রতিনিধি সভার তথ্য।

নয়া দিগন্ত শিরোনাম করেছে, “গুলিস্তানে জাসদ কার্যালয়ে বৈঠক : আ’লীগের শতাধিক নেতাকর্মী আটক“। এই প্রতিবেদনেও জাসদের কর্মসূচীর তথ্যকে এড়িয়ে গিয়ে কেবল ‘আওয়ামী লীগ’ ফ্রেমিং করতে দেখা গেছে।

যায়যায়দিন শিরোনাম দিয়েছে, “গুলিস্তান থেকে আওয়ামী লীগের শতাধিক নেতাকর্মী আটক” ।

বাংলাভিশনে “নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের গোপন বৈঠক থেকে সাংবাদিক সূর্য আটক” শিরোনামে খবর প্রচারিত হতে দেখা যায়।

ডেইলি ক্যাম্পাস শিরোনামে লিখেছে, “আওয়ামী লীগের গোপন বৈঠক থেকে সাংবাদিক নেতাসহ অর্ধশতাধিক আটক”।

যায়যায়দিন, বাংলাভিশন, ডেইলি ক্যাম্পাস এর প্রতিবেদনের সবকটিতেই জাসদের প্রতিনিধি সভার তথ্যটি এড়িয়ে, ‘আওয়ামী লীগের গোপন সভা/বৈঠক’ বলে প্রচার করতে দেখা গেছে। উপোরক্ত মিডিয়া ছাড়াও আরো একাধিক মিডিয়াতেই একই ধরনের সংবাদ প্রচার করতে দেখা যায়, যেখানে জাসদের প্রকাশ্য কর্মসূচীর তথ্যকে এড়িয়ে বিশেষ কোন ন্যারেটিভ প্রচারের প্রবণতা স্পষ্ট।

এই ঘটনাটি বাংলাদেশের মূলধারার গণমাধ্যমের বস্তুনিষ্ঠতা এবং সত্যতা যাচাইয়ের (Fact-checking) ঘাটতিকে আবারও সামনে এনেছে। পুলিশের বক্তব্য বা প্রাথমিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে জাসদের মতো একটি নিবন্ধিত দলের প্রকাশ্য ও অনুমতিপ্রাপ্ত রাজনৈতিক কর্মসূচিকে ‘আওয়ামী লীগের গোপন বৈঠক’ হিসেবে ফ্রেমিং করা সাংবাদিকতার মৌলিক নীতিমালার পরিপন্থী। দ্রুত সংবাদ প্রকাশের প্রতিযোগিতায় ঘটনার দ্বিপাক্ষিক সত্যতা ও জাসদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যকে এভাবে এড়িয়ে যাওয়া কেবল বিভ্রান্তিই বাড়ায় না, বরং গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতাকেও সংকটের মুখে ফেলে।