ফ্যাক্ট চেকস
“৬ মাসেই ৩ লাখ টন পেঁয়াজ মজুদের ব্যবস্থা করে রেখেছে সরকার”–দাবিটি সত্য নয়
বিভ্রান্তিকর

“৬ মাসেই ৩ লাখ টন পেঁয়াজ মজুদের ব্যবস্থা করে রেখেছে সরকার”–দাবিটি সত্য নয়

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে  Engineers Diary নামক পেজ থেকে দাবি করা হয়েছে সরকার বর্তমানে ৩ লক্ষ টন পেঁয়াজ মজুদের জন্য আধুনিক সংরক্ষণাগার তৈরী করেছে। এছাড়াও পোস্টে দাবি করা হয়েছে, সরকার ৯০০ টির বেশি বিশেষ স্টোরেজ তৈরী করেছে। দেখুন

ফ্যাক্ট-চেক

পোস্টটিতে একাধিক বিভ্রান্তিকর তথ্য দেয়া হয়েছে।
পোস্টে দাবি করা হয়েছে, ৩ লক্ষ টন পেঁয়াজ মজুদের জন্য আধুনিক সংরক্ষণাগার তৈরী করেছে, যা সত্য নয়। কৃষিমন্ত্রী গত ১৮ আগষ্ট সাংবাদিকদের জানান ৩ লক্ষ টন পেঁয়াজ সংরক্ষণের সক্ষমতা তৈরীর পরিকল্পনা গ্রহণ হয়েছে৷ অর্থাৎ,এসব অবকাঠামো এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।

পোস্টে বাংলাদেশে বিদ্যমান পেয়াজের সংরক্ষণ ব্যবস্থা আধুনিকায়ন নিয়েও ভুল তথ্য দেয়া হয়েছে।  বাংলাদেশে আধুনিক পেয়াজ সংরক্ষণের  প্রযুক্তির যাত্রা শুরু হয় ২০২৩-২৪ সালে।মে ২০২৪ সালে ময়মনসিংহে দেশের প্রথম এবং একমাত্র বিশেষায়িত পাইলট কোল্ড স্টোরেজ  উদ্বোধন করা হয়। ডাচ সরকারের অর্থায়নে বাংলাদেশে পেঁয়াজের সরবরাহ চেইন উন্নত করার লক্ষ্যে ‘অনিয়ন ইমপ্যাক্ট ক্লাস্টার’ প্রকল্পের অংশ হিসেবে হিমাগারটি গড়ে তোলা হয়েছিল।ডাচ ও বাংলাদেশি কোম্পানির কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে  পেঁয়াজের এই হিমাগারটি প্রতিষ্ঠা করা হয়৷ প্রাথমিকভাবে এর ধারণ ক্ষমতা ছিল ৪০০ টন।

মে ২০২৩ সালে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘আশা’ (ASA) পাবনার সুজানগরে প্রথম বাণিজ্যিকভাবে ১-হর্সপাওয়ারের যান্ত্রিক এয়ারফ্লো মেশিন ব্যবহার শুরু করে। এরপর সরকারিভাবে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের (DAM) বিশেষ প্রকল্পের আওতায় সারা দেশে ৩০০ টি  আধুনিক মডেল পেঁয়াজ সংরক্ষণাগার (মডেল শেড) তৈরি করা হয়
বর্তমানে ২০২৫ সালে নেয়া প্রকল্পের অধীনে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (DAE) মাঠপর্যায়ে প্রথম দফায় ৩,৭০০টি এয়ারফ্লো মেশিন স্থাপনের কাজ করছে। সর্বশেষ চলতি ২০২৬ সালের জুলাই মাসে দেশজুড়ে আরও ১৫,০০০ নতুন এয়ারফ্লো মেশিন বিতরণের মেগা প্রজেক্টের কাজ শুরু হয়েছে, যার লক্ষ্য দেশের মোট সংরক্ষণ সক্ষমতা ৩ লাখ টনে উন্নীত করা। অর্থাৎ, দেশের বর্তমান মজুদ ক্ষমতা ৩ লক্ষ টন নয়, বরং সেই লক্ষ্যে কাজ চলছে।

ফ্যাক্ট-চেক জোন সিদ্ধান্ত: সরকার পেয়াজ মজুদের ক্ষমতা ৩ লাখে উন্নীত করেছে-দাবিটি সত্য নয়।।