ফ্যাক্ট চেকস
ফাইনালে মেসির পরিবার অনুপস্থিত থাকার দাবিটি সত্য নয়! কথিত ‘মুক্তিযোদ্ধা’ জামাত এমপি গাজী নজরুলের নেই মুক্তিযোদ্ধা সনদ, সংসদে দাঁড়িয়ে করেন বিকৃত ইতিহাস প্রচার! আসামের শিক্ষক প্রশিক্ষণের ভিডিওকে বাংলাদেশের দাবি করে গুজব ছড়ালেন ‘আমার দেশ’ এর স্টাফ রিপোর্টার ‘বন্যায় ইউনুসের দশ হাজার কোটি টাকার সহায়তা’,-স্যাটায়ার পোস্টকে সত্য ভেবে শেয়ার দিচ্ছেন ইউনুসপন্থী এক্টিভিস্টরা! ফ্যাক্ট চেক: পরীক্ষার্থীদের ভোগান্তি নিয়ে সংসদে শিক্ষামন্ত্রীর দেয়া বক্তব্য সঠিক নয় “একাত্তরের পর প্রণীত দুইশো জন যুদ্ধাপরাধীর তালিকায় জামাত নেতাদের নাম নেই”-মারদিয়া মমতাজের দাবিটি মিথ্যা! ‘স্বাধীনতাবিরোধী’ আজহারউদ্দীন পুত্র বীর বিক্রম মেজর হাফিজের ক্রমাগত ইতিহাস বিকৃতি!
‘স্বাধীনতাবিরোধী’ আজহারউদ্দীন পুত্র বীর বিক্রম মেজর হাফিজের ক্রমাগত ইতিহাস বিকৃতি!
মতামত

‘স্বাধীনতাবিরোধী’ আজহারউদ্দীন পুত্র বীর বিক্রম মেজর হাফিজের ক্রমাগত ইতিহাস বিকৃতি!

স্পিকার মেজর হাফিজ দাবি করেছেন, “তাজউদ্দিন সাহেব শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে গিয়ে বলেছিলেন, পাকিস্তানিরা আক্রমণ করতে যাচ্ছে, মানুষ স্বাধীনতা চায়। কিন্তু শেখ সাহেব তখন বলেছিলেন, আমি বিচ্ছিন্নতাবাদী হতে পারি না, পাকিস্তান ভাঙতে আমার কোনো অবদান থাকুক এটি আমি চাই না। সুতরাং তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি।” দেখুন 

মেজর হাফিজের এসব দাবির উৎস মূলত তাজউদ্দীন কন্যা শারমিনের ‘নেতা ও পিতা’ বইয়ের ৪৫তম পৃষ্ঠা। এই বই প্রকাশিত হওয়ার আগে এসব দাবি স্বাধীনতার পর ৪০-৪৫ বছর অব্দি কোথাও শোনা যায়নি। শারমিনের বইতে এসব দাবি উঠে এলেও, মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বয়স ছিল মাত্র এগারো বছর ৷ তার উপর ৭১ এর ২৫ মার্চ রাতের ২দিন আগেই তাকে খালার বাড়িতে রেখে আসা হয়। তাই তার পক্ষে এসব ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হওয়া সম্ভবও ছিলনা। তার দাবি এসব ঘটনা তিনি তার মায়ের কাছ থেকে জেনেছেন৷ তবে তাজউদ্দীনের স্ত্রী জোহরা তাজউদ্দীন বেঁচে থাকা অবস্থায় নিজে এসব দাবি কখনো করেন নি এবং তার জীবদ্দশায় শারমিন এই বইটি ছাপাননি বিধায় বইয়ে উল্লেখিত তথ্যগুলো কখনোই ভেরিফাই করা সম্ভব হয়নি।

সে যাই হউক, ‘নেতা ও পিতা’ বইয়ের ৪৫ তম পৃষ্ঠার উপর ভিত্তি করে যারা দাবি করতে চান “শেখ মুজিব স্বাধীনতা চান নি” তারা মূলত এই বইটির ওই একটি পাতাই পড়েছেন৷ পুরো বইটি পড়েন নি।

একই বইয়ের ১১২ পৃষ্ঠায় শারমিন লিখেছেন, “বঙ্গবন্ধু ২৫ মার্চ রাতে স্বাধীনতা ঘোষণা করলেও পরবর্তীতে অনেক বিতর্ক হয়েছে। এতে সত্যের চেয়ে ব্যক্তি স্বার্থ প্রাধান্য পেয়েছে। বিএনপি জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সচেষ্ট হয়।”

কিন্তু শারমিন যে একটু আগেই বললেন, তাজউদ্দীন মুজিবকে রাজি করাতে পারেন নি! তাহলে মুজিব কিভাবে ঘোষণা দিল? সেই উত্তরও শারমিন দিলো-

” বঙ্গবন্ধু যে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন, তার প্রমাণ হল শহীদ ইন্জিনিয়ার নুরুল হককে তিনি ট্রান্সমিটার সংগ্রহ করার নির্দেশ দেন। নির্দেশ অনুসারে  ২৫ মার্চ নূরুল হক খুলনা থেকে ট্রান্সমিটার আনেন। ২৫ মার্চ রাত ১২ টার দিকে বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে একটি ফোন আসে। সেই ফোন রিসিভ করেন বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত সহকারী গোলাম মোর্শেদ৷ ফোনের ওইপাশ থেকে বলা হয়– ‘বলধা গার্ডেন থেকে বলছি। মেসেজ পাঠানো হয়ে গেছে। ট্রান্সমিটার কি করবো?’ বঙ্গবন্ধু তার সহকারীকে দিয়ে বলান, ‘মেশিনটা ভেঙে তাকে পালিয়ে যেতে বল”

প্রসঙ্গত, এই ইন্জিনিয়ার নূরুল হককে পরবর্তীতে ২৯ তারিখ পাকিস্তান আর্মি তুলে নিয়ে যায় এবং হত্যা করে।

নেতা ও পিতা (পৃষ্ঠা-১১২)

অর্থাৎ শারমিনের ‘নেতা ও পিতা’ বইতেই বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণার স্পষ্ট উল্লেখ আছে। এতেই বোঝা যায়, মেজর হাফিজ বীর বিক্রমের যেমন একটি ‘অনির্ভরযোগ্য’ বইকে মনে ধরেছে, তেমনি একই সাথে সেই বইয়ের ‘অর্ধেক তথ্য’ তিনি ফেরি করে বেড়াচ্ছেন।

মেজর হাফিজের পিতা ছিলো স্বাধীনতাবিরোধী!

মেজর হাফিজ নিজে মুক্তিযোদ্ধা হলেও, তার পিতা আজহারউদ্দীন ছিলেন চিহ্নিত স্বাধীনতাবিরোধী৷ ৭০ এর নির্বাচনে আজহারউদ্দীন আওয়ামী লীগের টিকেটে নির্বাচিত হলেও, স্বাধীনতা বিরোধী ভূমিকার জন্য আওয়ামী লীগ এবং গণপরিষদ থেকে বহিষ্কার করা হয়৷

আজহারউদ্দীন এর ভূমিকা নিয়ে ১৯৭৩ সালের ৩০ এপ্রিলের ইত্তেফাক সংখ্যায় লেখা হয়,”প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া নির্বাচিত প্রতিনিধিদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানাইলে ডাক্তার সাহেব তাহাতে সাড়া দিতে ভুল করেন নাই৷ পরবর্তী কিছু সময় ভোলাকে ‘দুষ্কৃতিকারী'(মুক্তিযো*দ্ধা) মুক্ত রাখার জন্য পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বোটে চড়িয়া ব্যাপক তৎপরতা চালান। স্বাধীনতার পর উপরোক্ত কারণেই আজহারউদ্দীন সাহেবকে আওয়ামী লীগ হইতে বহিষ্কার করা হয়”

তথ্যসূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক
৩০ শে এপ্রিল, ১৯৭৩

৩০ মার্চ পর্যন্ত মেজর হাফিজ ছিলেন পাকিস্তানের ‘সেনা’!

স্বাধীনতা ঘোষণার পরেও ৩০ শে মার্চ অব্দি তৎকালীন ক্যাপ্টেন হাফিজ যশোর ক্যান্টনমেন্টেই ডিউটি করেছেন। এর আগে  আওয়ামী লীগ এমপি জনাব মঈনুদ্দিন মিয়াজী হাফিজকে মুক্তিযুদ্ধে যোগদানের জন্য চেষ্টা করে কয়েকবার ব্যর্থ হন। একইভাবে ব্যর্থ হন কুষ্টিয়া বিজয়ের পর যশোর ক্যান্টনমেন্ট দখল করতে হাফিজের সহায়তা চাওয়া মেজর আবু ওসমান।

এদিকে মেজর আবু ওসমানের বাহিনী দ্বারা যশোর ক্যান্টনমেন্ট আক্রমণের আশঙ্কায় ৩০ মার্চ ক্যাপ্টেন হাফিজকে ডেকে পাঠানো হয়। ক্যাপ্টেন হাফিজ যশোরে ফিরতে উদ্যোগ নিলে চৌগাছার আওয়ামী লীগ নেতা আতিয়ার রহমানের নেতৃত্বে জনগণ রাস্তায় শুয়ে ব্যারিকেড দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু এসব কিছু অগ্রাহ্য করে ক্যাপ্টেন হাফিজ তাঁর বাহিনী নিয়ে ৩০ মার্চ বিকাল ৩-৪টার দিকে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অনুগত হিসেবে সেনানিবাসে ফিরে আসেন।

ফিরে আসার পর কী হয়েছিল সেটা জেনে নিই হাফিজের নিজের ভাষ্যে, ” ২৯ মার্চ আমাদের ক্যান্টনমেন্টে ডেকে পাঠানো হলো। ৩০ মার্চ সকাল সাড়ে সাতটার দিকে ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার সরদার আবদুর রহিম দুররানি এসে আমাদের নিরস্ত্র করার আদেশ দিলেন। এ খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের সৈনিকেরা দাবানলের মতো স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিদ্রোহ করে। অস্ত্রাগার ভেঙে অস্ত্রশস্ত্র বের করে।”

সৈনিকরা যখন বিদ্রোহ শুরু করে দিয়েছে তখনো কিন্তু হাফিজ সাহেব যোগ দেন নি৷ তিনি শুরুতেই গেলেন তার কমান্ডিং অফিসারের কাছে–“সেনারা সবাই আমাকে ঘিরে ধরে বলতে থাকে, আমি যেন বিদ্রোহে যোগ দিই। কমান্ডিং অফিসারের কাছে গিয়ে বললাম, ‘স্যার, আমাদের সৈনিকেরা তো বিদ্রোহ করেছে। আমরা এখন কী করব?’ তিনি কোনো নির্দেশই দিতে পারলেন না। আমি বাইরে এসে খানিকক্ষণ চিন্তা করে বিদ্রোহ করার সিদ্ধান্ত নিলাম। আমার বয়স তখন ২৭ বছর। অবিবাহিত, কোনো পিছুটান নেই”। সাক্ষাৎকারের লিংক

অর্থাৎ, তিনি সম্পূর্ণ পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়ে যোগ দেয়া ছাড়া উপায় দেখেন নি৷ পরবর্তীতে ওনারা ক্যান্টনমেন্ট থেকে বেরিয়ে এসে দেখতে পান ইতিমধ্যেই আওয়ামী লীগ নেতাদের নেতৃত্বে স্থানীয় জনতার প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়েছে যা তাদেরকে রক্ষা করে।

শুরুতেই যুদ্ধে যোগ না দেয়ার ভুল সিদ্ধান্তের চরম মাশুল চুকাতে হয়।১ম বেঙ্গলের বিপুল সংখ্যক সেনা সদস্য হতাহত হয়। অনেকেই আহত অবস্থায় ধরা পড়ে। তাদেরকে হত্যা করা হয়। সেভেন ফিল্ড অ্যাম্বুলেন্স কোরের ৪০ জন বাঙালি সেনাকে তাদের পরিবারবর্গসহ হত্যা করা হয়। CMH এর ডাক্তার লে. কর্নেল এসএ হাইকে তার পরিবারবর্গসহ হত্যা করা হয়। ১ম বেঙ্গলের ৫০% এবং ফিল্ড অ্যাম্বুলেন্স কোরের পুরোটাই ধ্বংসযজ্ঞে পরিণত হয়। অল্প সংখ্যক সেনাসদস্য নিয়ে হাফিজ একান্ত বাধ্য হয়ে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিলেও ক্ষতি যা হওয়ার তা হয়েই গিয়েছিল। (সূত্র-বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ নাজমুল হোসেন এর লেখা “যশোরের মুক্তিযুদ্ধ ও রাজনীতি” বই থেকে)

হাফিজ সাহেব আজকাল প্রায়ই প্রচার করে বেড়াচ্ছেন বঙ্গবন্ধুর কাছে টেপ রেকর্ডার নিয়ে যাওয়ার পরও তিনি নাকি স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি৷ মজার ব্যাপার হলো, হাফিজ সাহেব কিন্তু ৭ই মার্চ বা মার্চের প্রেক্ষাপটও জানতেন না। তার ভাষায়, “পশ্চিম পাকিস্তানে থাকার কারণে আমি শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ বা অসহযোগ আন্দোলনের ঘটনা জানতে পারিনি। ফিরে আসার পর দেখি, মানুষ অত্যন্ত ক্ষুব্ধ এবং উত্তেজিত। ”

যেই লোক ৭ই মার্চের ভাষণ দেখেনি, যে লোক উত্তাল মার্চ দেখেনি, যে লোক মার্চের ৩০ তারিখ পর্যন্ত নিজেই জানতেন না মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে, যার পিতা চিহ্নিত স্বাধীনতা বিরোধী, তার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে নানা গলদ থাকবে-এটাই স্বাভাবিক। নাহলে ‘বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা’র মত প্রতিষ্ঠিত সত্য তার না জানার কোন কারণ নেই৷

বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার কিছু আন্তর্জাতিক দলিল

১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন যা কেবল জাতীয় ইতিহাসেই নয়, আন্তর্জাতিক দলিলেও সুপ্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে স্বীকৃত।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আর্কাইভ Foreign Relations of the United States (FRUS)-এর ১৯৭১ সালের ভলিউম (Document 11)-এ উল্লেখ রয়েছে যে, ২৬ মার্চ ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে সিআইএ পরিচালক Richard Helms বলেন:
“A clandestine radio broadcast has Mujibur Rahman declaring the independence of Bangla Desh.”
অর্থাৎ, একটি গোপন বেতার বার্তায় বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার তথ্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পৌঁছে যায়। Source: U.S. Department of State Archive

একইসঙ্গে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা Central Intelligence Agency–এর ডিক্লাসিফায়েড নথি President’s Daily Brief for March 26, 1971-এ বলা হয়:
“East Pakistani leader Mujibur Rahman has reportedly called for resistance to ‘the enemy forces at any cost’.”
অর্থাৎ, তিনি যেকোনো মূল্যে শত্রু বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

Source: CIA FOIA Electronic Reading Room

 

আগষ্টের প্রথম দিকে যুদ্ধের কারণ অনুসন্ধানে ‘White Paper’ নামে একটি তদন্ত প্রকাশ করে পাকিস্তান । উক্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, “২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে শেখ মুজিব স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়ার এবং সশস্ত্র বিদ্রোহের প্রস্তুতির প্রমাণ তদন্ত টীম পেয়েছে।” রিপোর্টে আরো বলা হয়, -“শেখ মুজিব সশস্ত্র বিদ্রোহের উদ্দেশ্যে জেনারেল ওসমানীকে  Chief of Commander হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন”

সূত্র: White Paper-on the crisis of East Pakistan

স্বাধীনতা ঘোষণার দায়ে শেখ মুজিবের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার তোড়জোড় চলছিল এবং এনিয়ে আমেরিকার ওপরে যে আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি হচ্ছিল তার প্রমাণ পাওয়া যায় মার্কিন গোপন নথিতে।

“ফারল্যান্ড জিজ্ঞাসা করলেন, বিচারের পর পূর্ব পাকিস্তানে একটি রাজনৈতিক মীমাংসার আলোচনায় মুজিবুরকে ‘তুরুপের তাস’ হিসেবে ব্যবহার করার কথা ইয়াহিয়া ভেবেছিলেন কি না। ইয়াহিয়া ইঙ্গিত দিলেন যে তিনি এই সম্ভাবনাটি নিয়ে যথেষ্ট ভেবেছিলেন, কিন্তু তার করার কিছু নেই৷ কেননা মুজিবুরের বিরুদ্ধে সংগৃহীত দেশদ্রোহিতার প্রমাণে এতটাই সুস্পষ্ট ছিল যে,  তার মুক্তির প্রতিক্রিয়ায় পশ্চিম পাকিস্তানে উত্তাল হতে পারে “

সূত্র:
(Telegram 9599 from Islamabad, September 21; ibid., RG 59, Central Files 1970–73, POL 29 PAK)↩

এসব ছাড়াও তৎকালীন শত শত আন্তর্জাতিক পত্রিকার কাটিং পাওয়া যাবে, যেখানে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণার খবর পাওয়া যায়।

খোদ যে তাজউদ্দীন আহমেদের রেফারেন্স দিয়ে মেজর হাফিজ বলছেন ‘শেখ মুজিব স্বাধীনতার ঘোষণা দেয় নাই’, সেই তাজউদ্দীন ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল ত্রিপুরার বাগাফায় স্থাপিত ‘স্বাধীন বাংলা বেতারে’  প্রবাসী সরকারের পক্ষ থেকে প্রথম অফিসিয়াল ভাষণে স্পষ্ট করে জানান, “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন।” পরবর্তীতে ১৭এপ্রিল প্রবাসী সরকার যে মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলায় শপথ নেন,  তাজউদ্দীন আহমেদ সেই জায়গার নামকরণ মুজিবের নামে করেন- ‘মুজিবনগর’।

মেজর হাফিজ একজন বীর বিক্রম মুক্তিযোদ্ধা৷ তিনি ৭ বারের সাংসদ৷  সংবিধান রক্ষার শপথ নিয়ে তিনি স্পিকার হিসেবে সংসদ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছেন৷ সেই সংবিধান মতে বঙ্গবন্ধুই জাতির পিতা এবং স্বাধীনতার ঘোষক৷ অথচ, স্পিকার হয়ে তিনি সংবিধানের অবমাননা করছেন অনায়াসেই৷ সংসদের স্পিকারই যখন সংবিধানের মর্যাদাকে সমুন্নত রাখার ব্যাপারে সচেতন নন, তখন সংসদের অন্য সদস্যরা সংবিধানকে কতটুকু সম্মান করে সেটা আলোচনার বিষয় তো বটেই।