ফ্যাক্ট চেকস
চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতাকে অস্বীকার করে সংসদে প্রতিমন্ত্রীর ‘অসত্য’ ভাষণ! মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় ফজলুর রহমানের নাম না থাকার দাবিটি গুজব! ‘ভুয়া’, ‘নিবন্ধনহীন’ পোর্টালকে সূত্র ধরে রুপপুরে ৫ বিলিয়ন ডলার দুর্নীতির দাবি গণমাধ্যমে! বিএনপি সরকারের ২ মাসেই রাডার! ‘ভারতের হাতে বাংলাদেশের আকাশ’ সহ একাধিক গুজবের ‘ঝড়’! ‘অস্তিত্বহীন’ টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে স্পীকারের ভুল তথ্য, সংবাদমাধ্যমে ‘মিথ্যা’ ছবি প্রচার ইউনিসেফের লেটার প্যাডে ভুয়া অপ্রাসঙ্গিক চিঠি, ‘অন্তর্বর্তী সরকার আমলে ১ হাজার কোটি টাকার টিকা আমদানি’র গুজব ছড়ালেন পিনাকী ব্যারিস্টার ফুয়াদের গলায় ‘জুতার মালা’ পরিয়ে ঘোরানোর ছবিটি এআই
‘ভুয়া’, ‘নিবন্ধনহীন’ পোর্টালকে সূত্র ধরে রুপপুরে ৫ বিলিয়ন ডলার দুর্নীতির দাবি গণমাধ্যমে!
আলোচিত ফ্যাক্টচেক

‘ভুয়া’, ‘নিবন্ধনহীন’ পোর্টালকে সূত্র ধরে রুপপুরে ৫ বিলিয়ন ডলার দুর্নীতির দাবি গণমাধ্যমে!

রুপপুরে ফুয়েল লোডিং উদ্বোধনের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্প থেকে শেখ হাসিনা এবং তার পরিবারের সদস্যদের দ্বারা ৫ বিলিয়ন ডলার বা ৬০ হাজার কোটি টাকা লুটের তথ্য ঘুরে বেড়াচ্ছে। ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর পর এই শিরোনামে বাংলাদেশের একাধিক শীর্ষ সংবাদমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে৷

দেখুন এখানে ,এখানে  , এখানে

প্রতিটি সংবাদমাধ্যমে এই খবরের সূত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে “Global Defense Corp (GDC)” নামের একটি ওয়েবসাইট। GDC তে প্রকাশিত মূল আর্টিকেল এখানে

কারা এই Global Defense Corp?
ফ্যাক্ট-চেক জোনের অনুসন্ধানে কথিত এই Global Defense Corp নিয়ে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে৷

GDC-এর প্রকৃত মালিক বা প্রতিষ্ঠান প্রকাশ্যে নেই।এর ডোমেইন রেজিস্ট্রেশন privacy-protected—মানে আসল মালিকের পরিচয় লুকানো। একটি “সংবাদমাধ্যম” এর জন্য এমন অস্বচ্ছতা স্বাভাবিক নয়।

অনুসন্ধানে আরো দেখা গেছে, GDC একটি অনিবন্ধিত সংবাদ মাধ্যম। এরা কোনো দেশে সংবাদমাধ্যম হিসেবে নিবন্ধিত বা তালিকাভুক্ত নয়৷ এদের ওয়েবসাইটে ঘুরে কোনো newsroom address, লাইসেন্স, বা regulatory affiliation বিষয়ক কোন তথ্য পাওয়া যায়নি৷

তাদের ওয়েবসাইটে অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজ এবং এক্স হ্যান্ডেল এর লিংক দেয়া হয়। যেখানে দেখা যায় ফেসবুকে ৫০০ এর নিচে ফলোয়ার এবং এক্স হ্যান্ডেলে ১০০ এর চেয়ে কিছু ফলোয়ার আছে। এমন একটি পোর্টালের সংবাদকে বরাত দিয়েই বাংলাদেশের সমস্ত শীর্ষ গণমাধ্যম রুপপুরের মত এত বড় ব্রেকিং নিউজ প্রকাশ করেছে! ফ্যাক্ট-চেক জোন অনুসন্ধান করে নিশ্চিত হয়েছে, আন্তর্জাতিক কোন গণমাধ্যম কখনোই এই তথাকথিত পোর্টাল  GDC কে সূত্র হিসেবে ব্যবহার করেনি।

 

GDC এর সম্পাদক বা সাংবাদিক কারা?
GDC তে কারা কাজ করে এরা কেউই প্রকাশ্য নয়। মূলত Ghost বা anonymous id হিসেবেই এরা লেখালেখি করে৷ কোনো verified সাংবাদিক বা defense analyst হিসেবে তাদের পরিচিতি নেই।

কী ধরনের কন্টেন্ট তারা প্রকাশ করে?
GDC-এর একাধিক আর্টিকেল বিশ্লেষণে দেখা যায়, মূলত তারা বিভিন্ন ধরনের চটকদার Conspiracy theory প্রচার করে থাকে, যার অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নূন্যতম কোন তথ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হয় না। বাংলাদেশকে নিয়ে তাদের বেশিরভাগ প্রকাশিত সংবাদেই এন্টি-বাংলাদেশ, এন্টি- বাংলাদেশ সেনাবাহিনী , এন্টি-আওয়ামী লীগ, এন্টি-বিএনপি, প্রো-আমেরিকান, প্রো-পাকিস্তানি, এন্টি-ভারত, এন্টি-রাশিয়া, এন্টি-চায়না ভাবধারা পরিলক্ষিত হয়৷

গত ২২ এপ্রিল,২০২৬ তারিখে, ” বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার পথ অনুসরণ করে ভারতের Raw এর সাথে যোগসূত্র স্থাপন করছে” শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ করে । প্রতিবেদনে তারেক রহমান ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা RAW এর সামনে ‘মাথা নত’ করেছেন বলে উল্লেখ করে বলা হয় তিনিও শেখ হাসিনার পথেই হাটছেন।

প্রতিবেদনে আরো লেখা হয় “বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর এজেন্সি এতই অযোগ্য, দুর্নীতিগ্রস্থ, অপ্রশিক্ষিত এবং প্রযুক্তিগতভাবে এতই দুর্বল যে যে ওসমান হাদীকে যে RAW হত্যা করেছে, তারা সেটা প্রমাণ করতে ব্যর্থ৷” দেখুন

২০২৪ সালের ৮ আগষ্ট তারা তারেক রহমানকে ‘প্রকৃত দুর্নীতির রাজা’ ও ‘মাদক সম্রাট’ উপাধি দেয়। শিরোনামে লিখে “বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমান: প্রকৃত দুর্নীতির রাজা ও মাদক সম্রাট তার বাংলাদেশি পাসপোর্ট জমা দেওয়ার পর রাজনীতিতে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন।দেখুন

২৩শে ফেব্রুয়ারী,২০২৬ তারিখের আরেকটি প্রতিবেদনে তারা শিরোনাম করেছে ” ভারতীয় RAW এর সম্পদ ব্রি.জে. হাফিজুর রহমান (চোর) কে অব্যাহতি দিয়ে সেনাবাহিনীর ভেতর ভারতীয় ডীপ স্টেট ভেঙে দিলেন তারেক রহমান।” দেখুন 

উল্লেখ্য গত ২২ ফেব্রুয়ারী ভারতের নয়াদিল্লীতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা হিসেবে কর্মরত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো: হাফিজুর রহমান, এনডিসি, পিএসসি-কে মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতি দিয়ে ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি (GOC) হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে এবং তিনি কর্মরত আছেন৷ এই ধরনের একজন শীর্ষ সেনা সদস্যের নামের পাশে কোন রকম প্রমাণ ছাড়াই ‘চোর’ উপাধি দিতে তারা নূন্যতম পেশাদারিত্ব মানার প্রয়োজন অনুভব করেনি।

গত ২৫ শে মার্চ তারা শিরোনাম করে “দুর্নীতিগ্রস্ত ডিজিএফআই পরিচালককে ভারতে পাঠিয়ে সম্পর্ক ঠিক করতে চান তারেক রহমান, যখন দিল্লিতেই আছে খুনী হাসিনা’। যথারীতি এই প্রতিবেদনের ভেতরেও ডিজিএফআইয়ের পরিচালক মেজর জেনারেল কায়সার রশিদ চৌধুরীর নামের পাশে ব্রাকেটে ‘চোর’ শব্দটি ব্যবহার করে তারা

গত ৩ ফেব্রুয়ারী আরেকটি প্রতিবেদনে তারা প্রচার করে, “বাংলাদেশী মিডিয়া এপস্টেইন ফাইল প্রকাশের শেখ হাসিনা এবং নরেন্দ্র মোদির সম্পর্ক ‘রোমান্টিক’ বলে দাবি করেছে” দেখুন 

কথিত এই ধরনের কোন প্রতিবেদন বাংলাদেশী মিডিয়াতে অনুসন্ধান করে খুঁজে পায়নি ফ্যাক্ট-চেক জোন।

 

১৫ অক্টোবর,২০১৯ সালে প্রকাশিত আরেকটি প্রতিবেদনে তারা শিরোনাম করে, ” বাংলাদেশ সেনাবাহিনী (চোর) ২০০টি ভারতীয় টাটা স্পোর্টস কার কেনার নামে ২০ মিলিয়ন ডলার সরিয়েছে” যথারীতি এখানেও ছিল না কোন তথ্য প্রমাণ। দেখুন

৩রা নভেম্বর, ২০২৫ সালে তারা ISPR এর নামের পাশে ব্রাকেটে ‘চোর’ লিখে দিয়ে শিরোনামে লিখে “আইএসপিআর-চোর ভুয়া অস্ত্র কেনার দরপত্র প্রকাশ করে সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছে” দেখুন 

গত বছরের অক্টোবরে বিমানবন্দরে শর্ট সার্কিটে লাগা অগ্নিকান্ডকেও তারা RAW এর কাজ দাবি করে সংবাদ ছাপায়। যথারীতি এই দাবির পেছনেও নূন্যতম তথ্য প্রমাণ হাজির করা হয়নি।

বাংলাদেশে আমেরিকান ঘাঁটির জন্য তাবেদারি!
তথাকথিত এই বিদেশী সংস্থা মনে করে বাংলাদেশে আমেরিকার সামরিক ঘাটি হলে বাংলাদেশের শক্তি বাড়বে৷ ১৬ সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে চট্টগ্রাম অঞ্চলকে ‘কৌশলগতভাবে জরুরি অঞ্চল’ উল্লেখ করে সেখানে মার্কিন ঘাটি স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা বোঝানোর চেষ্টা করা। সেই প্রতিবেদন

পর্দার আড়ালে এক প্রবাসী বাংলাদেশী!
বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর সংবাদ নিয়ে কাজ করা আন-অফিসিয়াল একটি পোর্টাল bdmilitary.com তাদের অনুসন্ধানে GDC নিয়ে চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে। তাদের দাবি GDC নামক এই ‘এন্টি-বাংলাদেশ’ প্লাটফর্মের পেছনে লুকিয়ে থাকা মুখটির ছদ্মনাম Raihan Al Beruni। তাদের তথ্যমতে, এই লোক বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী।

ছবি- bdmilitary.com এর অনুসন্ধানে উঠে আসা কথিত Raihan Al Beruni

ফ্যাক্ট-চেক জোন অনুসন্ধান করে জানতে পেরেছে, এই একই ছদ্মনামে Bangla Tribune এ একজন লিখালিখি করতেন, যার বিষয়বস্তুও একই ছিল৷ সামরিক বাহিনী! bdmilitary.com অপতথ্য ছড়ানো এই লোককে বাংলাদেশের জন্য হুমকি মনে করে। দেখুন

উল্লেখ্য bdmilitary.com এর তথ্য  ফ্যাক্ট-চেক জোন কর্তৃক ভেরিফাই করা যায়নি।

যাচাই ছাড়াই শেয়ার করছেন বিএনপি পন্থীরাও!
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, জামাতপন্থীদের পাশাপাশি এই ধরনের নিবন্ধনহীন, ভুতুড়ে সাইটের সংবাদ যাচাই বাছাই ছাড়াই শেয়ার করছেন বিএনপিপন্থী একটিভিস্টরা৷

ঢাবির বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা হামিমের পোস্ট দেখুন 

বিএনপিপন্থী একটিভিস্ট Ishat Mannan এর পোস্ট 

Wasi Uz Zaman এর পোস্ট 

রুপপুর পারমানবিক প্রকল্পের দুর্নীতি নিয়ে কী ছিল সেই প্রতিবেদনে
GDC এর সেই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যরা রোসাটম থেকে পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে ঘুষ হিসেবে ৫০০ কোটি ডলারেরও বেশি আত্মসাৎ করে লাভবান হয়েছেন।” তারা আরও দাবি করে শেখ হাসিনা এই সব অর্থ মালেশিয়ার একটি ব্যাংকে ট্রান্সফার করেন। GDC তে ছাপানো প্রতিবেদনকেই মূলত বাংলাদেশের সব সংবাদমাধ্যম বাংলায় অনুবাদ করে প্রচার করে।

ফ্যাক্ট-চেকিং জোনের অনুসন্ধানে এই প্রতিবেদনেও যথারীতি একাধিক অসঙ্গতি উঠে এসেছে।

GDC তাদের এই দুর্নীতির দাবিগুলোর বিপরীতে নূন্যতম কোন তথ্য বা প্রমাণ উপস্থাপন করেনি৷ তাদের এসব তথ্য কেবল দাবির ভিত্তিতে গড়ে তোলা, যা স্পষ্টতই হলুদ সাংবাদিকতা৷

প্রতিবেদনে আরো দাবি করা হয় ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকী ২০১৩ সালে রাশিয়ার সাথে বাংলাদেশের এই ডীল করে দিতে ১ বিলিয়ন ডলার ঘুষ নেন৷ অথচ ২০১৩ সালে ৩০ বছর বয়সী তরুণ টিউলিপ সিদ্দিকী পার্লামেন্ট সদস্যও ছিলেন না৷ সেই টিউলিপ সিদ্দিকী কিভাবে রুপপুরের মত বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের ডীল করে দিলেন, তার কেন তথ্য প্রমাণ প্রতিবেদনে পাওয়া যায় না৷

রুপপুর পারমানবিক প্রকল্পের মোট বাজেট ১২.৬৫ বিলিয়ন ডলার। যার ৯০% অর্থায়নই করেছে রাশিয়া৷ বাংলাদেশের অর্থায়ন ১০% বা ১.২৭ বিলিয়ন ডলার৷ এই ১.২৭ বিলিয়ন ডলার থেকে ৫ বিলিয়ন ডলারই লুট করা অসম্ভব৷

অন্যদিকে রাশিয়ার দেওয়া প্রায় ১১.৫০ বিলিয়ন ডলার থেকে শেখ পরিবারকে বিলিয়ন ডলার দাবিটিও রীতিমতো অবান্তর৷ কেননা ঋণ হিসেবে অর্থায়ন করা প্রায় সাড়ে ১১ বিলিয়ন ডলার রাশিয়া পুরোপুরি ফেরত পাওয়ার কথা ২০৪৯ সালে৷ এর মধ্যে যুদ্ধ বিগ্রহ, অর্থনৈতিক দৈন্যদশা সহ নানা ঝুঁকির কারণে সেই অর্থ ফেরত পেতে আরো দেরিও হয়ে যেতে পারে। এমনকি বাংলাদেশ দেউলিয়াত্ব বরণ করলে, রাশিয়া তাদের দেয়া বিলিয়ন ডলার আর ফেরত নাও পেতে পারে। এই যখন অবস্থা, সেখানে শেখ পরিবারকে অগ্রিম ৫ বিলিয়ন ডলার উপঢৌকন দেয়া, তাও আবার রাশিয়ান সরকারের পক্ষ থেকে, এটি কেবল অসম্ভবই নয় রীতিমতো হাস্যকর!

রাশিয়ার অফিসিয়াল বিবৃতি:

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ৫ বিলিয়ন বা ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার ঘুষ দেওয়া হয়েছিল, এমন খবরকে ‘গুজব’ ও ‘মিথ্যা’ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার মান্টিটস্কি।

তিনি বলেন,” ৫০০ কোটি ডলার, এটি বিশাল অঙ্ক। যখন প্রকল্পের নির্মাণকাজ চলছে, তখন কাউকে এ বিশাল অঙ্কের অর্থ দেওয়া হয়েছে, এটি কীভাবে সম্ভব?আমরা কি পাগল? গত নির্বাচনের আগে থেকে এমন কথা ছড়ানো হচ্ছে। রাশিয়া, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হেয় করার জন্য এ ধরনের অভিযোগ করা হচ্ছে।’ দেখুন

 

এ বিষয়ে রাশিয়ান সরকারি সংস্থা রোসাটম নিশ্চিত করে রাশিয়ান আইন অনুযায়ী তারা ঋণগ্রহীতা তথা বাংলাদেশকে সরাসরি কোন অর্থ দেয় না৷ বরং রাশিয়ান সাপ্লায়ারকে সরাসরি রাশিয়ান সরকার রুবলে বিল পরিশোধ করে।

বিবৃতিতে জানানো হয়, “রূপপুর এনপিপি প্রকল্পে যে কোনো দুর্নীতির সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে না তার প্রমাণ হল যে, রাশিয়ান ফেডারেশনের আইন অনুযায়ী কোনো রাষ্ট্রীয় রপ্তানি ঋণের প্রদানে সার্বভৌম ঋণগ্রহীতার কাছে সরাসরি টাকা স্থানান্তর করা হয় না। রপ্তানি চুক্তির অধীনে বিদেশি গ্রাহককে প্রদত্ত যেকোনো পণ্য, কাজ বা পরিষেবাগুলোর অর্থায়ন রাশিয়ান রুবেলে রাশিয়ান অর্থ মন্ত্রণালয় রাশিয়ান রপ্তানিকারক সংস্থাকে সরাসরি দেয়। রাশিয়ান অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রদত্ত নথি অনুযায়ী এই লেনদেনগুলো করা হয়, এবং পূর্বে আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলোর উপর বিশেষায়িত বৈধ এজেন্ট– ভিইবি-আরএফ (VEB.RF, Vnesheconombank) দ্বারা সেই নথিগুলো অনুমোদিত হয়। রাষ্ট্রীয় রপ্তানি ঋণের ব্যবহৃত পরিমাণ রাশিয়ান ফেডারেশনের প্রতি বিদেশি রাষ্ট্র ঋণগ্রহীতার ঋণ হিসেবে বিবেচিত হয়।” রোসাটমের বিবৃতি

দুদকের অনুসন্ধান
GDC এর তথ্যের ভিত্তিতে অনুসন্ধান চালাচ্ছে দুদক। এ বিষয়ে হাই কোর্টে রুল জারি করায় ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে দুদক অনুসন্ধান শুরু করে। রূপপুর প্রকল্পে কী ধরনের দুর্নীতির তথ্য দুদকের হাতে এসেছে তার বর্ণনায় তারা জানায়, “বিভিন্ন ‘উন্মুক্ত সূত্র’ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, রূপপুরে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলারের ‘আর্থিক অনিয়ম’ হয়েছে।” GDC কে ”উন্মুক্ত সূত্র’ হিসেবে ধরে নিয়ে তদন্তে ১৮ মাসেও কোন কুল কিনারা করতে পারেনি দুদক। এমন ভূতুড়ে সাইটের সূত্র ধরে দুদক আদৌ কোন প্রমাণ আবিষ্কার করতে পারার কথাও নয়৷

প্রশ্ন থেকে যায়, এমন ভুয়া, ভুতুড়ে সাইটকে সূত্র ধরে সংবাদ ছাপানো বাংলাদেশী সংবাদমাধ্যমগুলোও আসলে কতটা দায়িত্ববোধের পরিচয় দিয়েছে?