ফ্যাক্ট চেকস
“ট্রাফিক সিগন্যালে এআই ক্যামেরার উদ্যোগ অন্তর্বর্তী সরকারের”- দাবিটি মিথ্যা!
ফ্যাক্ট চেক

“ট্রাফিক সিগন্যালে এআই ক্যামেরার উদ্যোগ অন্তর্বর্তী সরকারের”- দাবিটি মিথ্যা!

ঢাকায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে বসানো এআই ক্যামেরার উদ্যোগ প্রথম কবে নেয়া হয়েছিল তা নিয়ে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপি পন্থী একটিভিস্ট Fatima Tuj Johra লিখেছেন, “বিএনপি সরকারের নীরব বিপ্লব! বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় Ai প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করেছে বিএনপি সরকার।” পোস্ট লিংক

শারমিন আক্তার নিশি লিখেছেন, “বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় Ai প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করেছে বিএনপি সরকার।” লিংক

এই দাবির বিপরীতে আবার ভিন্ন দাবি নিয়েও প্রচারণা চালাচ্ছে বেশ BongoGraph, The Delta Lens, বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষ, Shariful Islam Alal সহ একাধিক পেজ এবং প্রোফাইল । তাদের দাবি বিএনপি নয়, অন্তর্বর্তী সরকারই এই উদ্যোগ প্রথম নিয়েছিল। দেখুন এখানে, এখানে, এখানে, এখানে

ফ্যাক্ট-চেক

এই দুই পক্ষের কারো দাবিই সঠিক নয়। ফ্যাক্ট-চেক জোন এর অনুসন্ধানে দেখা যায়, বাংলাদেশে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে এ-আই ক্যামেরা স্থাপন মূলত আওয়ামী লীগ সরকার আমলের প্রজেক্ট।

২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরেই প্রজেক্ট বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে গুলশানে ক্যামেরা বসানোও হয়েছিল এবং রাজধানীর আরও ১৭টি পয়েন্টে বসানো হবে বলে জানিয়েছিল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। দেখুন এখানে, এখানে

প্রসঙ্গত ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে integrated traffic management system প্রণয়নের জন্য ৩৫৭.৯১ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দেয়। এরই আওতায় সড়কে এ-আই ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগ নেয়া হয়। দেখুন

এছাড়াও ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে পত্রিকা থেকে জানা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ২৫০ কিলোমিটারজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন (এআই) সিসি ক্যামেরা বসানো হচ্ছে।  এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে ১৫২ কোটি ৫৬ লাখ টাকার এই প্রকল্পের প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ সেসময়ই শেষ হয়েছিল। আর ১০০টি ক্যামেরা বসানোর কাজ বাকি ছিল। ২০২১ সালের জুনে ‘হাইওয়ে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক প্রকল্পের অধীন ক্যামেরা বসানোর কাজ শুরু হয়েছিল। নিয়ম ভাঙলে এসব ক্যামেরা গাড়ি শনাক্ত করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা দিতে পারে কিনা জানতে চাইলে বরকত উল্লাহ খান বলেন, ‘ এটি সেন্ট্রাল অ্যাপের মাধ্যমে পরিচালিত, তাই বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা যাবে। এখন গাড়ি শনাক্ত করে আমরা মামলা দিই। তবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা দেওয়ার পদ্ধতি এখনও চালু করা হয়নি। এই পদ্ধতি চালুর বিষয়ে বিআরটিএর সঙ্গে আলোচনা চলছে।’ দেখুন এখানে, এখানে

ফ্যাক্ট-চেক জোন সিদ্ধান্ত- অন্তর্বর্তী সরকার বা বিএনপি আমলে নয়, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে এ-আই ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ প্রথম আওয়ামী লীগ আমলেই।