ফ্যাক্ট-চেক: রাজনৈতিক অপপ্রচার
সাবেক পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী এবং ঢাকা-৯ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরীরনামে ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে কোনো মামলা হয়নি, এমন একটি দাবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। তাকে ‘সুবিধাবাদী’ হিসেবে চিত্রিত করতে এই অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তবে ফ্যাক্ট-চেক জোন (Fact-Check Zone)-এর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন।
দাবির প্রেক্ষাপট ও অপপ্রচারের উৎস
সম্প্রতি ফেসবুকে আওয়ামী লীগের ‘ক্লিন ইমেজের’ নেতাদের নিয়ে একটি জরিপ পরিচালিত হয়, যেখানে সাবের হোসেন চৌধুরী জনপ্রিয়তায় প্রথম স্থানে উঠে আসেন। এর পরপরই একটি স্বার্থান্বেষী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রচার করতে শুরু করে যে, তার নামে কোনো মামলা হয়নি এবং তিনি বর্তমান পরিস্থিতির সাথে আপস করেছেন। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হচ্ছে:
প্রকৃত সত্য: সাবের হোসেন চৌধুরীর নামে একাধিক মামলা ও গ্রেফতার
আমাদের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সাবের হোসেন চৌধুরীর নামে ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেফতারও হয়েছিলেন।
সংবাদ মাধ্যম দ্য ডেইলি স্টার-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৬ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে ডিবি পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। পরবর্তী সময়ে তাকে আদালতে তোলা হলে কয়েক দফায় রিমান্ডেও নেওয়া হয়। তার নামে খিলগাঁও থানায় অন্তত ৪টি এবং পল্টন থানায় ২টিরও বেশি মামলার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।
কেন এই অপপ্রচার?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাবের হোসেন চৌধুরীর দীর্ঘদিনের পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক ক্যারিয়ার এবং সাম্প্রতিক ফেসবুক জরিপে তার শীর্ষস্থান অর্জনের বিষয়টি একটি বিশেষ পক্ষকে বিচলিত করেছে। তার রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এবং তাকে দলের ভেতরে ও বাইরে বিতর্কিত করতেই ‘মামলা না হওয়ার’ এই মিথ্যা তথ্যটি সুপরিকল্পিতভাবে ছড়ানো হচ্ছে।
সহায়ক সংবাদ সূত্র:
- দ্য ডেইলি স্টার: সাবের হোসেন চৌধুরীকে গ্রেফতার ও রিমান্ডের খবর
- প্রথম আলো: সাবের হোসেন চৌধুরীসহ ৬২ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে গুম ও …
- বাংলা নিউজ ২৪: অসুস্থ, তাই আদালত থেকেই মুক্ত সাবের হোসেন চৌধুরী
- যুগান্তর : সাবের চৌধুরীসহ ৬২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
সাবের হোসেন চৌধুরীর নামে ৫ আগস্টের পর মামলা না হওয়ার দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তিনি ইতিপূর্বেই একাধিক মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন এবং আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গেছেন। মূলত তার ‘ক্লিন ইমেজ’কে নষ্ট করার উদ্দেশ্যেই এই অপপ্রচার চালানো হয়েছে।
সাম্প্রতিক ফ্যাক্টচেক পড়ুন –
আওয়ামী লীগ শাসনামলে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার : সংসদে তারেক রহমানের বক্তব্য বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা
মালিকানা ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয় নিয়ে ‘দ্য ডিসেন্ট’ এর দাবি কতটুকু স্বচ্ছ?
ডিজিটাল যাচাইয়ে নিশ্চিত: ভাইরাল ভিডিওটি জাইমা রহমানের, তবে সাম্প্রতিক নয়




