কারাগার থেকে আনিসুল-সালমান-পলকের ভোট দেওয়ার তথ্য মিথ্যা

ফ্যাক্ট চেক জোন টিম
সিদ্ধান্ত: মিথ্যা / FALSE ❌

কারাগার থেকে আনিসুল-সালমান-পলকের ভোট দেওয়ার তথ্য মিথ্যা

দাবি: কারাবন্দী সাবেক মন্ত্রী ও নেতারা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছেন।

বাস্তবতা: জোনায়েদ আহমেদ পলকের পরিবার সরাসরি নিশ্চিত করেছে যে তিনি ভোটের জন্য কোনো নিবন্ধনই করেননি। কারা কর্তৃপক্ষও নির্দিষ্টভাবে তাদের ভোট দেওয়ার কোনো তথ্য দেয়নি। সুতরাং, ভোট দেওয়ার এই দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

দাবির সারসংক্ষেপ :
দৈনিক ইত্তেফাকসহ , বাংলাদেশ প্রতিদিনসহ  কয়েকটি গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে যে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কারাবন্দী সাবেক মন্ত্রী আনিসুল হক, উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিয়েছেন।
দাবির উৎস ও প্রেক্ষাপট 
উৎস: দৈনিক ইত্তেফাক (অনলাইন সংস্করণ), কারাগার থেকে ভোট দিলেন সালমান, আনিসুল, পলকরা
ফেসবুকে প্রকাশিত স্ক্রিনশট
প্রেক্ষাপট: ২০২৪ সালের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো কারাবন্দীদের পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। এর প্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী কারাবন্দী নেতারা ভোট দিয়েছেন বলে সংবাদ প্রচার হচ্ছে । তবে রাজনৈতিকভাবে তারা এই নির্বাচনের সময় কারাগারে থাকায় এবং তাদের দল ও ব্যক্তিগত অবস্থানের কারণে বিষয়টি নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে ।
ফ্যাক্ট-চেকিং অনুসন্ধানঃ 
সংবাদ মাধ্যমের অসংগতি: দৈনিক ইত্তেফাকের শিরোনামে ‘কারাবন্দী নেতারা ভোট দিয়েছেন’ বলা হলেও সংবাদের মূল অংশে কারা কর্তৃপক্ষের কোনো সুনির্দিষ্ট উদ্ধৃতি বা প্রমাণ দেওয়া হয়নি যে তারা ব্যক্তিগতভাবে ব্যালট পেপার জমা দিয়েছেন।
পরিবারের বক্তব্য (প্রাথমিক সূত্র): এ বিষয়ে জানতে জোনায়েদ আহমেদ পলকের স্ত্রীকে ফ্যাক্ট চেক জোনের পক্ষ থেকে ফোন করা হলে তিনি জানান, “পলক ভোট তো দূরের কথা, পোস্টাল ব্যালটের জন্য কোনো নিবন্ধনই (Registration) করেননি”
কারা কর্তৃপক্ষের দাপ্তরিক বক্তব্য: সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন) জান্নাত-উল-ফরহাদ গণমাধ্যমকে (যেমন: বিডি প্রতিদিন, আপন দেশ) জানিয়েছেন যে, দেশে ৫ হাজারেরও বেশি বন্দী পোস্টাল ব্যালটের জন্য নিবন্ধিত হয়েছেন। তবে তিনি সুনির্দিষ্টভাবে সালমান এফ রহমান, আনিসুল হক বা পলকের নাম উল্লেখ করেননি। তিনি কেবল পদ্ধতিটি ব্যাখ্যা করেছেন (তিনটি খাম, সিলগালা পদ্ধতি ইত্যাদি)। এ বিষয়ে  আরও বিস্তারিত জানতে  ফ্যাক্ট চেক জোনের পক্ষ থেকে কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মোঃ মোতাহের হোসেনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি ।
কারা কর্তৃপক্ষের অবস্থান: কারা অধিদপ্তর বা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ থেকে সালমান এফ রহমান বা আনিসুল হকের ভোট দেওয়ার বিষয়ে কোনো দাপ্তরিক নিশ্চিতকরণ (Official Confirmation) পাওয়া যায়নি। সাধারণত কারা কর্তৃপক্ষ ভোটারের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করে এবং গণহারে নাম প্রকাশ করে না।
যমুনা টিভির রিপোর্ট: যমুনা টিভির একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই শিরোনামে,   প্রথমবারের মত ভোট দেবেন কারাবন্দিরা; আবেদন করেছেন আওয়ামী লীগের নেতারাও  আওয়ামী লীগের কারাবন্দী নেতাদের মধ্যে শাজাহান খান, হাসানুল হক ইনু এবং রাশেদ খান মেননসহ ২২ জন ভোট দেওয়ার আবেদন করেছিলেন। কিন্তু সেখানে আনিসুল হক বা সালমান এফ রহমানের নাম সুনির্দিষ্টভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
প্রথম আলোর রিপোর্ট অনুযায়ী, সারাদেশে ৪ হাজারেরও বেশি বন্দী ভোট দিলেও সেখানে আওয়ামী লীগের  হাই-প্রোফাইল নেতাদের নাম উল্লেখ ছিল না। একই সংবাদে প্রথম আলো উল্লেখ করেছে , “জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রীর তৎকালীন উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, আনিসুল হক, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদসহ ৩৯ জন ভিআইপি বন্দী ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছিলেন।” কিন্তু পুরো সংবাদে কোথাও কার বরাতে এই তথ্য পেয়েছে প্রথম আলো সেটা উল্লেখ করা নেই।   
আইএফসিএন (IFCN) নীতিমালার আলোকে মূল্যায়নঃ 
ক. নিরপেক্ষতা ও ন্যায্যতা: আমরা দাবিটি বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক পক্ষ নেইনি। সংবাদের সত্যতা যাচাইয়ে ইত্তেফাক এবং প্রথম আলোর সংবাদের তুলনামূলক বিশ্লেষণ এবং সরাসরি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিবারের বক্তব্যকে গুরুত্ব দিয়েছি।
খ.  উৎসের স্বচ্ছতা: উৎসের স্বচ্ছতা: আমরা সহকারী কারা মহাপরিদর্শকের বক্তব্য এবং জোনায়েদ আহমেদ পলকের পরিবারের বক্তব্য—উভয়কেই আমলে নিয়েছি।
গ.  পদ্ধতিগত স্বচ্ছতা: আমরা কী-ওয়ার্ড সার্চ, বিভিন্ন গণমাধ্যমের সংবাদের তুলনামূলক বিশ্লেষণ এবং সরাসরি ভিকটিম পরিবারের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই করেছি। একসাথে আমরা  “Clickbait” শিরোনাম এবং সংবাদের মূল তথ্যের মধ্যে যে বিস্তর ব্যবধান রয়েছে তা পদ্ধতিগতভাবে প্রমাণ করেছি।

রায় (Verdict)
❌ মিথ্যা / FALSE

ব্যাখ্যাঃ 
কারাবন্দীদের পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়াটি সত্য হলেও জোনায়েদ আহমেদ পলক, আনিসুল হক এবং সালমান এফ রহমানের মতো নির্দিষ্ট নেতারা ভোট দিয়েছেন,  এই দাবির কোনো দাপ্তরিক প্রমাণ নেই।

এদিকে জোনায়েদ আহমেদ পলকের পরিবার নিশ্চিত করেছে যে তিনি নিবন্ধনই করেননি। ইত্তেফাক ও বাংলাদেশ প্রতিদিনের  প্রতিবেদনে শিরোনামে দাবি করা হলেও বিস্তারিত অংশে কোনো প্রমাণ দিতে না পারায় এটি একটি বিভ্রান্তিকর (Misleading) সংবাদ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে ।

সংশোধন ও সুপারিশঃ 
পাঠকদের জন্য: শুধুমাত্র শিরোনাম দেখে কোনো খবর বিশ্বাস করবেন না। খবরের ভেতরে সুনির্দিষ্ট নাম ও দাপ্তরিক উদ্ধৃতি আছে কি না তা যাচাই করুন।

গণমাধ্যমের প্রতি: “ভোট দিলেন” এবং “ভোট দেওয়ার সুযোগ আছে” বা “আবেদন করেছেন”—এই তিনটি বিষয়ের মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য রয়েছে। বিভ্রান্তি এড়াতে সঠিক শব্দ চয়ন জরুরি।

📌 তথ্যসূত্র ও প্রামাণ্য দলিল (Sources & Evidences)

📧

অফিসিয়াল অনুসন্ধান:
কারাবন্দী জোনায়েদ আহমেদ পলকের পরিবারের সাথে সরাসরি ফোনালাপ ও ফ্যাক্ট-চেক জোনের নিজস্ব অনুসন্ধান।


📰

সংবাদ প্রতিবেদন ১:
দৈনিক ইত্তেফাক: “কারাগার থেকে ভোট দিলেন সালমান, আনিসুল, পলকরা” (ফেব্রুয়ারি ২০২৬)।


📰

সংবাদ প্রতিবেদন ২:
প্রথম আলো: “দেশের বিভিন্ন কারাগারে এখন পর্যন্ত ভোট দিয়েছেন ৪ হাজারের বেশি বন্দী” (ফেব্রুয়ারি ২০২৬)।


🌐

প্রাতিষ্ঠানিক তথ্য:
বিডি প্রতিদিন: সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন) জান্নাত-উল-ফরহাদ-এর দাপ্তরিক বক্তব্য।
* এই তথ্যগুলো ফ্যাক্ট-চেক জোনের নিজস্ব অনুসন্ধান এবং পাবলিক ডোমেইন থেকে সংগৃহীত।

Share on Social Media

Previous Post

Related Posts

Find Us On Social Media

সর্বশেষ প্রকাশিত

Ownership & Funding:

An initiative of THE

BRICKLANE NEWS LIMITED

(Company No-10776054)

You have been successfully Subscribed! Ops! Something went wrong, please try again.

Related Links

Awards

Success Story

Address

Copyright © 2026 Fact Check Zone | An initiative of Bricklane News Ltd | All rights reserved.