ফ্যাক্ট-চেক: গ্রিনল্যান্ড কি সত্যিই বিক্রির জন্য? ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবির সত্যতা কতটুকু?
১. দাবির সারসংক্ষেপ
সাবেক ও বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, গ্রিনল্যান্ড ঐতিহাসিকভাবে ডেনমার্কের জন্য একটি বিশাল আর্থিক বোঝা এবং ডেনমার্ক এটি আমেরিকার কাছে বিক্রি করতে আগ্রহী। তিনি আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত অবস্থান এবং খনিজ সম্পদের কারণে এটি আমেরিকার অংশ হওয়া উচিত।
২. দাবির উৎস ও প্রেক্ষাপট
এই দাবিটি মূলত ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, জনসভা এবং ২০১৯ সাল থেকে তাঁর দেওয়া বিভিন্ন সাক্ষাৎকার থেকে এসেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতেও তিনি গ্রিনল্যান্ড ক্রয় সংক্রান্ত বিষয়টিকে সামনে এনেছেন। FactCheck.org-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডকে একটি “বিশাল রিয়েল এস্টেট ডিল” হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
৩. তথ্য যাচাইয়ের ফলাফল
ক) ডেনমার্কের অবস্থান:
-
বিপরীত প্রমাণ: ডেনমার্ক সরকার এবং গ্রিনল্যান্ডের স্বায়ত্তশাসিত সরকার বারবার স্পষ্ট করেছে যে গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়। ২০১৯ সালে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন এই প্রস্তাবকে “অযৌক্তিক” (absurd) বলে অভিহিত করেছিলেন। [সূত্র: FactCheck.org]
-
সমর্থনকারী প্রমাণ: কোনো নির্ভরযোগ্য কূটনৈতিক বা সরকারি সূত্রে ডেনমার্কের এটি বিক্রির আগ্রহের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
খ) আর্থিক বোঝার দাবি:
-
আংশিক সত্য: ডেনমার্ক প্রতি বছর গ্রিনল্যান্ডকে প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ডলার (Block Grant) সহায়তা প্রদান করে। তবে ডেনমার্ক এটিকে “বোঝা” মনে করে না, বরং এটি তাদের কমনওয়েলথের অংশ। [সূত্র: Statista]
গ) কৌশলগত ও খনিজ গুরুত্ব:
-
সমর্থনকারী প্রমাণ: গ্রিনল্যান্ডে বিরল খনিজ উপাদান (Rare Earth Elements) রয়েছে এবং এর ভৌগোলিক অবস্থান আর্কটিক অঞ্চলে আমেরিকার প্রতিরক্ষা কৌশলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ (থুলে এয়ার বেস)। [সূত্র: U.S. Geological Survey]
৪. আইএফসিএন নীতিমালার আলোকে মূল্যায়ন
ক. নিরপেক্ষতা ও ন্যায্যতা: এই যাচাইকরণে কোনো রাজনৈতিক পক্ষ নেওয়া হয়নি। ট্রাম্পের দাবি এবং তার বিপরীতে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড সরকারের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য সমানভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে।
খ. উৎসের স্বচ্ছতা: এখানে FactCheck.org, ডেনিশ সরকারি বিবৃতি এবং আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলোর প্রাথমিক উৎস ব্যবহার করা হয়েছে। প্রতিটি তথ্যের জন্য নির্ভরযোগ্য লিংক ও রেফারেন্স প্রদান করা হয়েছে।
গ. পদ্ধতিগত স্বচ্ছতা: আমরা সার্চ টার্ম হিসেবে “Trump Greenland purchase claim”, “Danish government response to Greenland sale”, এবং “Greenland economy report” ব্যবহার করে তথ্য সংগ্রহ করেছি। সরকারি রেকর্ড এবং স্বাধীন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের ডাটা তুলনা করা হয়েছে।
৫. রায় (Verdict)
🟡 আংশিক সত্য / বিভ্রান্তিকর
৬. ব্যাখ্যা
ট্রাম্পের দাবির এই অংশটি সত্য যে গ্রিনল্যান্ডের প্রচুর প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে এবং ডেনমার্ক সেখানে বার্ষিক ভর্তুকি দেয়। তবে তাঁর এই দাবি যে “ডেনমার্ক এটি বিক্রি করতে চায়” বা এটি কেবল একটি “আর্থিক বোঝা”—সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ডেনমার্ক এবং গ্রিনল্যান্ড উভয়ই বারবার এই বিক্রির সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে। ফলে সামগ্রিক দাবিটি বিভ্রান্তিকর।
৭ . সংশোধন / সুপারিশ
ভবিষ্যতে এই ধরণের ভূ-রাজনৈতিক দাবি যাচাই করার সময় সংশ্লিষ্ট দেশের সংবিধান এবং আন্তর্জাতিক আইন (যেমন- Self-determination right of Greenlandic people) পর্যালোচনা করা উচিত। কোনো অঞ্চলের মানুষের ইচ্ছা ছাড়া সেই ভূখণ্ড কেনাবেচা আধুনিক আন্তর্জাতিক আইনে সম্ভব নয়।
তথ্যসূত্র: ১. FactCheck.org – Trump’s Claims About Greenland ২. BBC News – Denmark: Greenland is not for sale ৩. The Guardian – Danish PM says Greenland sale talks are absurd




